• ইতিহাসে প্রথম! মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে একজোট ১৯৩ বিরোধী সাংসদ, কালই নোটিস
    এই সময় | ১৩ মার্চ ২০২৬
  • ভারতের নির্বাচন কমিশনের ইতিহাসে এর আগে কখনও কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর জন্য সংসদে আনুষ্ঠানিক ভাবে নোটিস দেওয়া হয়নি। ফলে বিরোধীদের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং নজিরবিহীন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। লোকসভার ১৩০ জন এবং রাজ্যসভার ৬৩ জন সাংসদ এই নোটিসে সই করেছেন বলে সূত্রের খবর। তবে শুক্রবার ঠিক কোন কক্ষে প্রথম এই নোটিস পেশ করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    সংবিধান ও সংসদের নিয়ম অনুযায়ী, লোকসভায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের নোটিশ আনতে গেলে অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে, রাজ্যসভায় এই সংখ্যাটি ৫০। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই এই প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি সাংসদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে ফেলেছে।

    সংবাদসংস্থা PTI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক বিরোধী সাংসদ জানিয়েছেন, ‘নোটিশে সই করার জন্য সাংসদদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ দেখা গিয়েছে। বৃহস্পতিবারও বেশ কয়েকজন সাংসদ সই করতে এগিয়ে আসেন, যদিও ততক্ষণে প্রয়োজনীয় সংখ্যা পার হয়ে গিয়েছিল।’

    এই নোটিস সংসদে পেশ হওয়ার পরে যদি তা গৃহীত হয়, তবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির মতো একই পদ্ধতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ বা ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হবে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে তাঁর পদ থেকে সরাতে গেলে সংসদের দুই কক্ষে উপস্থিত ও ভোট দিয়েছেন এমন সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের এবং সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার অর্ধেকের বেশি সমর্থন প্রয়োজন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীরা সরব ছিল। ভোটার তালিকায় বিভিন্ন অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা, কোনওটাই কানে নেননি জ্ঞানেশ। SIR সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধীদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ আরও বেড়েছিল। এই অপসারণের নোটিস এবং তাতে বিরোধীদের গণ হারে স্বাক্ষর করা সেই সংঘাতকেই চরম পর্যায়ে নিয়ে গেল। শুক্রবার সংসদ অধিবেশন শুরু হলে এই ইস্যু নিয়ে বড় মাপের হইহট্টগোল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

  • Link to this news (এই সময়)