• অবশেষে ভোটার তালিকায় নাম উঠল প্রক্তন সেনাকর্মীর
    আজকাল | ১৩ মার্চ ২০২৬
  • মিল্টন সেন, হুগলি: ভোটার তালিকা থেকে বাদি গিয়েছিল নাম। ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে নাম তোলার জন্য আবেদন করা হয়েছি। অজানা কারণে সেটিও বাতিল হয়। তার পরেও চলে অনেক দরবার। অবশেষে ভোটার তালিকায় নাম উঠল হুগলির অশীতিপর বৃদ্ধ প্রাক্তন সেনাকর্মীর। নাম তোলার পরেই ওই সেনাকর্মী জানান, যতদিন বাঁচবেন ভোট দিতে চান। 

    হুগলি চুঁচুড়া পুরসভার কাপাসডাঙার বাসিন্দা শশীকান্ত হালদার (৮৫)। সেনাবাহিনীর ইলেকট্রিক্যাল মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে চাকরি করেছেন। অবসর গ্রহণ করেন ১৯৯১ সালে। ১৯৮৭ সালে শ্রীলঙ্কায় এলটিটিইর সঙ্গে কথা বলতে ভারতের শান্তি সেনার প্রতিনিধি দলের সদস্য ছিলেন তিনি। টানা ৩০ বছর চাকরি করে অবসর নিয়েছেন। বর্তমানে হুগলি চুঁচুড়া পুরসভার আট নম্বর ওয়ার্ড কাপাসডাঙায় তাঁর বসতবাড়ি। সেখানেই থাকেন।। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম থাকলেও পরে, সেই নাম বাদ যায়। তা তিনি জানতে পারেন এসআইআর শুরুর সময়, বিএলও যখন তাঁর বাড়িতে এনুমারেশান ফর্ম দিতে আসেন। পরিবারে তাঁর স্ত্রী দুই ছেলে বৌমাদের নামে এনুমারেশন ফর্ম দিলেও, ডিলিটেড ভোটার হওয়ার কারণে তাঁর ফর্ম দেননি বিএলও। নতুন ভোটার হিসাবে নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬ পূরন করে বিএলও বাড়ি থেকে সব তথ্য নিয়ে যান। সেই আবেদনও বাতিল হয়।

    এরপর বৃদ্ধের ছেলে বিনয় হালদার জেলা প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের পক্ষ থেকে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়। শশীকান্তের নাম বাদ গিয়েছে ভোটার তালিকা থেকে এই খবর নানা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরপরই নড়েচড়ে বসেন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা। শশীকান্তের ছেলেকে ডেকে ভোটার তালিকায় নাম তোলায় ব্যবস্থা করা হয়। 

    বৃহস্পতিবার শশীকান্ত বাবু বলেছেন, “যতদিন বাঁচব ভোট দেব। এর আগে অনেক নির্বাচনে বুথে গিয়ে ভোট দিয়েছি। তবে এখন পায়ের ব্যাথার জন্য হাঁটতে অসুবিধা হয়। বাড়ি থেকেই ভোট দিতে চাই।” 

    বৃদ্ধের ছেলে বলেন, “বাবার নামটা বাদ দেওয়া হয়েছিল। কেনও বাদ জানতে চাওয়া হয়েছিল। সেই প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি। যে তথ্য আগে দেওয়া ছিল সেই তথ্য দেখেই নাম তোলা হল, অনেক লড়াই করে অবশেষে নাম উঠেছে। আমাদের মতো অনেকেই হয়তো সেই জায়গায় যেতে পারছেন না। তাই তাঁদের হয়রান হতে হচ্ছে।”
  • Link to this news (আজকাল)