রাজ্যগুলির জন্য অতিরিক্ত কেরোসিন বরাদ্দ মোদী সরকারের, বাংলা পেল কতটা?
আজ তক | ১৩ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধের মধ্যে, ভারত সরকার জ্বালানি সরবরাহ এবং নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা বলেছেন, ভারত প্রতিদিন প্রায় ৫৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করে এবং বর্তমানে তাদের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ নিরাপদ। ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম পরিশোধক দেশ এবং দেশীয় অপরিশোধিত তেল উৎপাদন প্রায় ২৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
সুজাতা শর্মা বলেন, দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের কোনও ঘাটতি নেই। এলপিজির চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়, তবে বর্তমানে সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। রাজ্যগুলিকে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার এবং ৪০,০০০ কিলোলিটার কেরোসিন সরবরাহ করা হবে এবং কয়লার সরবরাহও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সঙ্কটের মধ্যে, সরকার বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে এলপিজির বিকল্প জ্বালানি হিসেবে রাজ্যগুলিকে ৪০,০০০ কিলোলিটার অতিরিক্ত কেরোসিন বরাদ্দ করা হয়েছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা বলেন, রাজ্য সরকারগুলি চিহ্নিত সুবিধাভোগীদের জন্য আরও কিছু বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার বিতরণ করবে। তবে তিনি আরও বলেন যে দেশে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং ১ লক্ষ পেট্রোল পাম্পের কোনওটিতেই অভাব দেখা দেয়নি।
সাংবাদিক সম্মেলনে সুজাতা শর্মা জানান, গ্রামীণ এলাকার মানুষ ৪৫ দিনের মধ্যে গ্যাস সিলিন্ডার পাবেন। তবে, শহরাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। শহরাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য ২৫ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে জাহাজ চলাচল মন্ত্রকের কর্মকর্তা রাজেশ কুমার বলেন, জাহাজগুলির জন্য অ্যাডভাইজারি জারি করে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম সক্রিয় করা হয়েছে। সরকার ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এদিকে, বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন যে দূতাবাসগুলি উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে পড়া ভারতীয়দের সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছে। ইরানে প্রায় ৯,০০০ ভারতীয় সহায়তা পাচ্ছেন এবং দুবাইতে আটকে পড়া একজন নাবিকের মৃতদেহ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
বিদেশ মন্ত্রক একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম খুলেছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে ভারতে আগত বিমানের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের একজন কর্মকর্তা সি. সেন্থিল রাজন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত ভুয়ো খবরের বিরুদ্ধে সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। টিভি চ্যানেলগুলিকেও পুরনো ভিডিও পুনঃপ্রচার এড়াতে এবং বিষয়বস্তুর তারিখ এবং সময় স্পষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকার জননিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে।
বাংলা কত কেরোসিন পাচ্ছে?
মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি এসে পড়েছে ভারত, বিশেষ করে বাংলার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। রান্নার গ্যাসের জোগান কমে যাওয়া এবং দামের ঊর্ধ্বগতিতে উদ্বেগ বাড়ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলির মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই রেশনের মাধ্যমে কেরোসিন সরবরাহ ফের চালুর দাবি তুলছেন। তাঁদের মতে, কেরোসিন পাওয়া গেলে অন্তত স্টোভ জ্বালিয়ে রান্নার কাজ চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এপ্রসঙ্গে ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন’-এর সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছিলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সংগঠনের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলা উপসাগরীয় সংঘাত দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। এর প্রভাব শেয়ার বাজার এবং ডলারের তুলনায় টাকার মূল্যের ওঠানামাতেও স্পষ্ট। তবে একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের কূটনৈতিক অবস্থান ও বিদশনীতির প্রশংসাও করা হয়েছে চিঠিতে। এদিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে গোটা দেশে ৪০,০০০ কিলোলিটার কেরোসিন সরবরাহ করবে ভারত সরকার। এরমধ্যে বাংলায় ৪,১৬৪ কিলোলিটার কেরোসিন তেল পাঠান হচ্ছে।