ইরানের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে রান্নার গ্যাসের উপরে। দেখা দিয়েছে জ্বালানি সঙ্কট। এর জেরে বাতিল হচ্ছে তারাপীঠ মন্দিরের (Tarapith Temple) ভান্ডারা। সমস্যা দেখা গিয়েছে একাধিক হোটেলে। জ্বালানি সঙ্কটের জেরে বন্ধ করে দিতে হয়েছে অনেকগুলি হোটেল এবং রেস্তরাঁ। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় আরও কয়েকটি হোটেল এবং রেস্তরাঁ বন্ধ করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা। এই নিয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ব্যবসায়ীদের কপালে।
গ্যাসের অভাবে ভোগ রান্নার পরিমাণ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে (Digha Jagannath Temple) কর্তৃপক্ষ। জ্বালানি সঙ্কটের কারণে আপাতত ভোগ বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে বাগবাজারের মায়ের বাড়ি, নৈহাটির (Naihati) বড়মা মন্দির, বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির, তমলুকে (Tamluk) বর্গভীমা মন্দিরের তরফে। একই আশঙ্কা দেখা গিয়েছে তারাপীঠেও।
বীরভূম (Birbhum) জেলা তারাপীঠে প্রতিদিনই আসেন কয়েক হাজার ভক্ত। মা তারার কাছে পুজো দিয়ে অনেকেই অপেক্ষা করেন ভোগের জন্য। কিন্তু জ্বালানি সঙ্কট এবং রান্নার গ্যাসের সমস্যা দেখা দেওয়ায় তারাপীঠের মন্দিরে ভান্ডারা দেওয়া নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক ভক্ত আসেন যাঁরা তারাপীঠে ৫০০, ১০০০ বা তারও বেশি মানুষদের জন্য মা তারার ভোগ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন।
তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় জানান, মা তারার ভোগ কাঠের জ্বালানিতে রান্না হয়। তবে প্রতিদিন ভক্তদের জন্য যে ভান্ডারা হয় তা রান্না করা হয় গ্যাস ব্যবহার করেই। প্রতিদিন অন্তত ৫০০ লোকের জন্য রান্না করা হয় এই ভান্ডারাতে। এই ভান্ডারা দিয়ে থাকেন পুণ্যার্থীরা। তবে গ্যাস সিলিন্ডারের সমস্যা হওয়ার জন্য অনেকেই ভান্ডারা বাতিল করছেন।
তিনি জানিয়েছেন, যাঁরা সাধারণ মানুষের জন্য ভান্ডারা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন, তাঁরা দু-তিন মাস আগে থেকে মন্দিরে খাওয়ানোর দিন বুক করেন। তবে গ্যাসের (Gas cylinder) সমস্যা হওয়ার কারণে যাঁরা রান্না করবেন, তাঁরা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন।
এলপিজির (LPG) সমস্যার প্রভাব পড়ছে হোটেলগুলিতেও। তারাপীঠের বেশ কিছু হোটেল ও রেস্টুরেন্টও জ্বালানির অভাবে বন্ধ। এ রকম চলতে থাকলে পর্যটন ব্যবসা লাটে উঠবে বলেও আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।
তারাপীঠ হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুনীল গিরি বলেন, ‘তারাপীঠে ৩৫০-র বেশি হোটেল রয়েছে । বেশ কিছু হোটেলে খাবারের ব্যবস্থা না থাকলেও অধিকাংশতেই তা রয়েছে । কিন্তু গ্যাস সিলিন্ডারের অভাবে এবং সিলিন্ডারের কালোবাজারির কারনে প্রায় ২০% হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দিতে হয়েছে।’ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আরও কয়েকটি হোটেল বন্ধ করতে হবে করতে হবে বলে আশঙ্কা তাঁর।
আর এর জেরে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তারাপীঠে আসা পর্যটকদেরও।