• ২৫ নয়, দুই সিলিন্ডার বুকিংয়ের ব্যবধান ৪৫ দিন! গ্রামাঞ্চলে ও দুর্গম স্থানে এলপিজি-র নিয়ম ব্যাখ্যা করলেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী
    আনন্দবাজার | ১২ মার্চ ২০২৬
  • পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে দেশের গ্রামাঞ্চল এবং দুর্গম এলাকায় দু’টি এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে ৪৫ দিন করা হয়েছে। সংসদে এমনটাই জানালেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী। শহরাঞ্চলের ক্ষেত্রে অবশ্য এই ব্যবধান এখনও ২৫ দিন।

    রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি রুখতেই বুকিংয়ে রাশ টেনেছে কেন্দ্র। প্রথমে বলা হয়েছিল, একটি সিলিন্ডার বুক করার ২১ দিন পর দ্বিতীয় সিলিন্ডার বুক করা যাবে। তার কিছু দিনের মধ্যেই ব্যবধান বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়। বৃহস্পতিবার সংসদে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী এই সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, ২৫ দিনের ব্যবধান কেবল শহরাঞ্চলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। গ্রামে একটি গ্যাস সিলিন্ডার বুক করার অন্তত ৪৫ দিন পর দ্বিতীয় সিলিন্ডারটি বুক করা যাবে।

    লোকসভায় মন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে পেট্রল, ডিজ়েল, কেরোসিনের অভাব নেই। পর্যাপ্ত গ্যাসও মজুত রয়েছে। জ্বালানি নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। ভারত মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি করে। তার অধিকাংশই আসে ইরান সংলগ্ন হরমুজ় প্রণালী দিয়ে। ওই রুটে পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় এলপিজি-র জোগান কমেছে। তবে তাতে চিন্তার কোনও কারণ নেই বলে দাবি করেছেন পুরী। তিনি জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরে এলপিজি উৎপাদনে জোর দেওয়া হয়েছে। গত ৮ মার্চ কেন্দ্রের নির্দেশিকার পর ২৮ শতাংশ উৎপাদনও বেড়েছে।

    রান্নার গ্যাসের দাম চলতি মাস থেকেই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কলকাতায় ৬০ টাকা বেড়ে এলপিজি সিলিন্ডার মিলছে ৯৩৯ টাকায়। দেশের নানা প্রান্তেই এলপিজি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, সিলিন্ডার বুক করাই যাচ্ছে না। অনেকে আবার বুক করতে পারলেও সিলিন্ডার হাতে পাননি। দিকে দিকে গ্যাসের অভাবে হোটেল, রেস্তরাঁর ভাঁড়ারে টান পড়েছে। তবে কেন্দ্রের দাবি, গ্যাস বুক করার আড়াই দিনের মাথায় সিলিন্ডার মিলছে। সেই সময়ে কোনও পরিবর্তন হয়নি। সংসদে বৃহস্পতিবারও মন্ত্রী সে কথা জানিয়েছেন। তবে কালোবাজারি রুখতে বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগানে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

    পশ্চিম এশিয়ার সামরিক সংঘাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে পুরী জানিয়েছেন, বিশ্ব এমন জ্বালানি সঙ্কটের মুখে আগে কখনও পড়েনি। তবে হরমুজ় প্রণালী বন্ধ হওয়ায় ভারতে তাঁর আঁচ বিশেষ একটা পড়েনি বলে দাবি করেছেন তিনি। হরমুজ় ছাড়াও অন্য পথে জ্বালানি আনা হচ্ছে। ৪০টি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল কিনেছে ভারত। পুরীর কথায়, ‘‘সিএনজি ১০০ শতাংশ সরবরাহ হচ্ছে। এলএনজি-রও কোনও ঘাটতি নেই।’’ তিনি জানান, প্রতি দিন বিভিন্ন বিকল্প রাস্তা হয়ে এলএনজির কার্গো ঢুকছে দেশে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)