এই সময়: এক ঘণ্টার সামান্য বেশি সময়ের প্রবল বৃষ্টিতে (heavy rain) ভেসে গেল দমদম (Dumdum) চত্বর। আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার ব্যাসের কোনও জায়গায় একঘণ্টায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে আবহবিদরা ‘মাইক্রোবার্স্ট’ (Microburst) বলে থাকেন। বৃহস্পতিবার সন্ধের পরে সেই ঘটনাই ঘটেছে দমদমে। এক ঘণ্টা আট মিনিটে ৫৪ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিতে ভিজেছে পুরো এলাকা। ‘খাতায়–কলমে’ ঠিক মাইক্রোবার্স্ট না হলেও প্রায় তার কাছাকাছি পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা পেলেন স্থানীয়রা।
বাংলার আকাশে একসঙ্গে একাধিক ওয়েদার সিস্টেম সক্রিয় হয়েছে। আবহবিদরা বলছেন, ছোটনাগপুর উপত্যকার উপরে বাতাস গরম হয়ে বায়ুমণ্ডলের উপরের দিকের স্তরে উঠে গিয়ে অনেকটা জায়গায় শূন্যস্থান তৈরি করে ফেলেছিল। সেই জায়গা পূর্ণ করার জন্য বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করতে শুরু করে বাংলা ও ওডিশার সীমানা বরাবর অঞ্চলে। এর ফলে ওই এলাকা কয়েক দিন ধরেই বজ্রবিদ্যুৎ–সহ ঝড়বৃষ্টির উপযুক্ত হয়ে উঠেছিল। এর পাশাপাশি গত সপ্তাহ থেকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার একটি প্রবাহ ঢুকছিল দেশের উত্তর–পশ্চিম দিক দিয়ে। ওডিশা থেকে উত্তরপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অক্ষরেখার প্রভাবে ওই ঝঞ্ঝা নেমে আসে দক্ষিণের দিকে। এমনই পরিস্থিতিতে সমুদ্র থেকে ঢুকতে থাকা জলীয় বাষ্পের স্রোত ওই ঝঞ্ঝার সঙ্গে মিশে এই সপ্তাহের শেষের দিনগুলোকে বাংলার জন্য বৃষ্টির অনুকূল করে তুলেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় তার প্রথম দফার বৃষ্টি পেল দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চল।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা ‘এই সময়’–কে বলেন, ‘ছোট এলাকার আকাশে হঠাৎ করে অনেকটা মেঘ জমে এমন পরিস্থিতি তৈরি করে। এ দিন ওই রকম মেঘ জমেছিল দমদম চত্বরে। তার প্রভাবেই দেড়ঘণ্টায় প্রায় ৬৩ মিমি বৃষ্টি হয় ওই এলাকায়। এর মধ্যে এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ে ৫৪ মিমির বেশি বৃষ্টি হয়ে অনেকটা এলাকায় জল জমে যায়।’