• গ্যাসের আকাল, খারাপ হয়ে পড়ে থাকা ইন্ডাকশন মেরামতের ভিড় দোকানে
    এই সময় | ১৩ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: রান্নার গ্যাসের বুকিংয়ের ঝামেলা আর আচমকা মূল্যবৃদ্ধি (LPG CRISIS) — এই জোড়া ফলায় বিদ্ধ মধ্যবিত্তের এখন মাথায় হাত। বুকিংয়ের সময়সীমাও বাড়িয়ে ২৫ দিন হওয়া এবং একলাফে গৃহস্থালি গ্যাসের দাম ৬০ টাকা বেড়ে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব দেখা যাচ্ছে শহরের ইলেকট্রনিক্স বাজারগুলিতে। বিকল্প খুঁজতেই এখন একমাত্র ত্রাতা হয়ে উঠছে ‘ইন্ডাকশন ওভেন’ (INDUCTION OVEN)। ফলে শহরের ইলেকট্রনিক্স হাব চাঁদনি মার্কেট থেকে শুরু করে পাড়ার মোড়ের মেরামতির দোকান— সর্বত্রই এখন ছবিটা এক। ধুলো জমা, দীর্ঘদিনের বিকল ইন্ডাকশন সারাতে ভিড় উপচে পড়ছে দোকানে।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে চাঁদনি মার্কেট চত্বরে গিয়ে দেখা গেল, ইন্ডাকশন মেরামতের দোকানের সামনে ভিড় জমিয়েছেন বেহালা থেকে মধ্যমগ্রাম, শহরের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। সবার হাতেই কাপড়ে জড়ানো বা ব্যাগে ভরা পুরোনো ইন্ডাকশন। মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা মাধব চৌধুরী ক্ষোভের সুরে বললেন, ‘তিনদিন ধরে লাগাতার চেষ্টা করেও গ্যাস বুক করতে পারিনি। অথচ রান্নাবান্না তো থেমে থাকবে না! তাই বাধ্য হয়ে তুলে রাখা খারাপ ইন্ডাকশনটা ঠিক করতে এলাম।’ একই অবস্থা যাদবপুরের বিপুল মণ্ডল বা কসবার অর্ঘ্য চৌধুরীদের। তাঁদের দাবি, ‘গ্যাসের অগ্নিমূল্যের বাজারে ইলেকট্রিকই এখন বেশি সাশ্রয়ী। তাছাড়া, গ্যাস তো পাওয়া যাচ্ছে না।’

    চাঁদনি মার্কেটের এক নামী ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র মেরামতির দোকানের মালিক সুমিত সাউ বলেন, ‘আগে যেখানে মাসে বড়জোর ৫০টি ইন্ডাকশন আসত, সেখানে গত তিন দিনেই অন্তত ৩০ জন এসেছেন পুরনো যন্ত্র ঠিক করতে। মূলত কয়েল পুড়ে যাওয়া বা আইসি-র সমস্যাই বেশি।’ গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউয়ের ফুটপাতে বসা মিস্ত্রি রাজু শেখের কথায়, ‘মানুষ এখন খরচ বাঁচাতে চাইছে। গ্যাসের বদলে বিদ্যুতের খরচ তুলনামূলক কম পড়ছে, তাই নাওয়া-খাওয়া ভুলে আমাদেরও ইন্ডাকশন মেরামতের কাজ করতে হচ্ছে।’

    ব্যবসায়ীদের দাবি, গত এক সপ্তাহে নতুন ইন্ডাকশন বিক্রির গ্রাফ অন্তত ৩০-৪০ শতাংশ বেড়েছে। সল্টলেক জিডি ব্লকের দোকানি মদন দত্তর বক্তব্য, ‘ভালো মানের নতুন ইন্ডাকশনের দাম বাজারে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে। সেখানে মাত্র ৩০০-৫০০ টাকার বিনিময়ে পুরনো যন্ত্র সারিয়ে নেওয়া অনেক বেশি লাভজনক বলে মনে করছেন ক্রেতারা।’ গড়িয়ার বাসিন্দা সঞ্চিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘গ্যাসের যা দাম আর বুকিংয়ের যা ঝক্কি, তাতে ভরসা এখন বিদ্যুতের জিনিস। তাছাড়া, নতুন একটা কেনার থেকেও তো সারিয়ে নেওয়াটা সস্তার।’ তবে, নতুন ইন্ডাকশনের চাহিদাও প্রচুর, জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং জোগান নিয়ে কড়াকড়ি মধ্যবিত্তকে বৈদ্যুতিন রান্নার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পরিস্থিতি এমন যে অনেক বড় দোকানে স্টকের টান পড়তে শুরু করেছে।

  • Link to this news (এই সময়)