• LPG সঙ্কটে স্টোভে ফিরতে চান কলকাতার চায়ের দোকানদাররা
    এই সময় | ১৩ মার্চ ২০২৬
  • দেবাশিস দাস

    কেউ কেজি দরে বিক্রি করে দিয়ে ছিলেন লোহালক্করের ফেরিওয়ালার কাছে। কেউ আবার দিনের পর ঘরের কোণে ফেলে রাখায়, ধুলোর স্তর জমে অকেজো হয়ে গিয়েছে পুরোটাই। কারণ, দোকানের জন্য এলপিজি সিলিন্ডারের (LPG CYLINDER) ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছে। ওভেনও কেনা হয়েছে। তাই কমে গিয়েছিল কেরোসিন স্টোভের কদর। কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তের চায়ের দোকানদাররা আবার সেই স্টোভের খোঁজ শুরু করেছেন। আপাতত এলপিজি সিলিন্ডারকে বিদায় জানিয়ে, তাঁরা আবার কেরোসিন তেলের স্টোভ ব্যবহার করতে চাইছেন।

    যাদবপুর এইট বি বাস স্ট্যান্ড (Jadavpur 8b Bus stand) লাগোয়া চায়ের দোকানদার অরূপ ভৌমিক জানান, পরিস্থিতি যা দাঁড়াচ্ছে, তাতে আবার কেরোসিনের স্টোভ জ্বালিয়ে দোকানদারি করার দিন ফিরে আসছে। তাঁর কথায়,‘খোলা বাজারে নীল কেরোসিনের দর এক লিটার ১০০ টাকা। আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে। তবু স্টোভ ব্যবহার ছাড়া অন্য কোনও রাস্তা নেই।’ স্টোভের আর কোনও দিন দরকার হবে না ভেবে, বছর সাতেক আগেই লোহালক্করের ফেরিওয়ালার কাছে কেজি দরে স্টোভ বিক্রি করে দিয়ে ছিলেন গড়িয়াহাটের চায়ের দোকানদার নন্দা মন্ডল। টোস্ট, ওমলেট, চা বিক্রি করছেন বছর বিশেক ধরে। তিনি বলেন, ‘সিলিন্ডারের দাম যেখানে যাচ্ছে, ওই দিয়ে আর দোকানদারি হবে না । নতুন করে স্টোভ কিনে কেরোসিন তেল দিয়ে দোকান চালাতে হবে।’

    এলপিজি সিলিন্ডারের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায়, লোডশেডিং লুপ্ত হওয়ায় কলকাতার দোকানদাররা কার্যত কেরাসিন তেলের ব্যবহার এবং স্টোভ জ্বালানো ভুলেই গিয়ে ছিলেন। ইরান যুদ্ধর প্রভাবে দেশ জুড়েই এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, শহরে ২৫ দিনের আগে গ্যাসের সিলিন্ডার বুকিং করা যাবে না। এরই মধ্যে অনেক চায়ের দোকানদার কী ভাবে দোকান চালানো যায় তার জন্য কেরোসিনের খোঁজ শুরু করেছেন। অনেকে আবার নতুন স্টোভের দাম কত পড়তে পারে তাও জানতে চাইছেন।

    শিয়ালদহ ও সূর্য সেন স্ট্রিটের সংযোগ স্থলের ফুটপাথে চায়ের দোকান রয়েছে রাজেশ পাসোয়ানের। তিনি বলেন, ‘এখনও সিলিন্ডার দিয়ে দোকান চালাচ্ছি। সপ্তাহ দুইয়েক পরে কী করব ভেবে পারছি না। সিলিন্ডার না মিললে কেরাসিন তেল এনে স্টোভ জ্বালিয়েই দোকান করতে হবে।’ ধর্মতলার চায়ের দোকান করেন রাজা গুপ্তা। তাঁর কথায়, ‘আগামী দিনে কেরাসিন তেলের দামও বাড়বে। সব খরচ সামলে আগামী দিনে দোকান চালানোই দায় হয়ে দাঁড়াবে।’

    তবে শহরে যে সব দোকানদার এখনও উনুন জ্বালিয়ে চায়ের দোকান করেন তাঁরা জ্বালানি নিয়ে দুঃশ্চিন্তা না করলেও, কয়লার দাম বৃদ্ধির শঙ্কায় রয়েছেন। রাসবিহারীর ফুটপাথে এখনও কয়লার উনুন জ্বালিয়েই চায়ের দোকান করেন দেবু সাহা। তাঁর কথায়,‘এলপিজি সিলিন্ডার না পাওয়া গেলে, কেরোসিন তেলের দাম বাড়লে , কয়লা ছাড় পাবে না। বাড়বে কয়লার দামও।’

  • Link to this news (এই সময়)