এই সময়, ঝাড়গ্রাম: গ্যাস–সঙ্কটে (LPG CRISIS) অস্থায়ী ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হলো রেস্তোরাঁ। ঝাড়গ্রাম শহরের (Jhargram City) রঘুনাথপুর এলাকায় মেন রোডের উপর ওই রেস্তোরাঁর বাইরে এ দিন একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তাতে লেখা, গ্যাসের কারণে রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকবে। অন্য দিকে, শহরের গ্যাস এজেন্সির অফিসগুলির বাইরে গ্রাহকদের লম্বা লাইন দেখা গেল বৃহস্পতিবার।
রেস্তোরাঁর এক কর্মী উজ্জ্বল পাল বলেন, ‘আমাদের রেস্তোরাঁয় প্রতিদিন ১৯ কিলো ওজনের এক থেকে দেড়টি গ্যাস সিলিন্ডার খরচ হয়। গতকাল থেকে গ্যাসের এজেন্টকে ফোন করা হলেও ফোন ধরছেন না। ফলে গ্যাসের অভাবে বৃহস্পতিবার রেস্তোরাঁ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন মালিক। গ্যাস পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া গেলে ফের চালু করা হবে।’
দূর থেকে আসা নিত্যদিনের খদ্দেরদের জন্য এ দিন দুপুরে রেস্তোরাঁর রকমারি মেনুর বদলে স্রেফ সাদা ভাত, ডাল এবং কয়েকটি সবজি রান্না করা হয়েছে। রেস্তোরাঁটিতে রাঁধুনি, সাফাই কর্মী–সহ ১৩ জন কর্মী রয়েছেন। তাঁরা উদ্বিগ্ন। রাঁধুনি প্রদীপ কর বলেন, ‘দৈনিক মজুরিতে আমরা এখানে কাজ করছি। গ্যাসের অভাবে রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ বার আমরা পরিবার চালাব কী ভাবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।’
অন্য দিকে, ঝাড়গ্রাম শহরের গ্যাস এজেন্সির অফিসগুলিতে সকাল থেকেই লম্বা লাইন দেখা যায়। অনেকেই সাইকেলে ও মোটর বাইকের পিছনে খালি সিলিন্ডার নিয়ে হাজির হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, অনলাইনে গ্যাস বুক করা যাচ্ছে না। অফিসে ফোন করা হলেও কেউ ফোন তুলছে না। তাই বাধ্য হয়ে গ্যাস নেওয়ার জন্য সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছেন তাঁরা। সকাল আটটা থেকে গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক গৃহবধূ শ্যামলী দাস বলেন, ‘বাড়ির গ্যাস শেষের মুখে। গ্যাস বুকিংয়ের জন্য বারবার ফোন করছি, কেউ ফোন তুলছেন না। তাই বাধ্য হয়ে সকাল থেকে গ্যাস নেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। গ্যাস না পেলে জঙ্গল থেকে কাঠ–পাতা এনে রান্না করতে হবে।’ ঝাড়গ্রাম শহরের একটি গ্যাস সংস্থার এজেন্টের পক্ষ থেকে সুরজিৎ হাঁসদা বলেন, ‘আমাদের চাহিদার তুলনায় কম গ্যাস সিলিন্ডার পাঠানো হচ্ছে। যার ফলে একটা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। সরবরাহ বাড়লে স্বাভাবিক ভাবেই গ্যাস বণ্টন করা হবে। বর্তমানে গ্যাস সংস্থার নির্দেশ অনুযায়ী গ্রাহকদের গ্যাস দেওয়া হচ্ছে।’