এই সময়, আসানসোল: গ্যাসের আকাল সরাসরি থাবা বসাল স্কুলের মিড–ডে মিল (Mid Day Meal) রান্নায়। কিছুতেই বন্ধ করা যাবে না খুদে পড়ুয়াদের দুপুরের খাবার। তাই দূষণের সঙ্গে আপস করেই আপাতত কাঠকয়লার উনুনে রান্না শুরু হয়েছে পশ্চিম বর্ধমানের (West Burdwan) একাধিক প্রাথমিক স্কুলে। অন্য দিকে, গ্যাসের বিকল্প নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ।
উনুনের ধোঁয়া থেকে দূষণ (Pollution) ছড়ায় বলে একসময়ে স্কুলগুলিতে গ্যাসে মিড–ডে মিল রান্নার নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। সেই নির্দেশ মেনে এত দিন রান্না হয়ে এসেছে স্কুলে স্কুলে। এবার সেই নিয়মে ছেদ পড়ছে। বৃহস্পতিবার সকালে কুলটি শিক্ষাচক্রের ডুবুরডিহি প্রাথমিক স্কুলে গিয়ে দেখা গেল, কয়লার উনুন ধরানো হয়েছে। ধোঁয়ায় ঢেকেছে পুরো স্কুল চত্বর। অবস্থা সামাল দিতে রান্নাঘরের দরজা এঁটেও রেহাই নেই। ধোঁয়ায় ভরেছে ক্লাশঘরও।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক অভিজিৎ দাস বললেন, ‘তিন দিন আগে গ্যাস শেষ হয়েছে। খবর দিলেও নতুন সিলিন্ডার মেলেনি। কিন্তু পড়ুয়াদের খাবার বন্ধ করা যাবে না। অগত্যা ভরসা এই কয়লার উনুনই।’ একই সমস্যায় পড়েছেন চিত্তরঞ্জন শিক্ষা চক্রের হদলা বাথানবাড়ি প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক বুবাই মাজি। তাঁর স্কুলেও উনুনেই এ দিন মিড–ডে মিলের রান্না হয়। তিনি বললেন, ‘গ্যাস শেষ। কবে পাব জানি না। তাই কয়লার উনুনেই ফিরতে হয়েছে।’ দু’জনেই জানালেন, দূষণ হচ্ছে জেনেও কিছু করার নেই। রান্না বন্ধ করা যাবে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, জেলার বহু স্কুলেরই নিজস্ব নামে গ্যাসের সংযোগ নেই। প্রধান শিক্ষকরা ব্যক্তিগত পরিচিতির সূত্রে নিকটবর্তী এজেন্সি থেকে গ্যাস সিলিন্ডার এনে মিড–ডে মিল রান্নার ব্যবস্থা করেন। গ্যাসের আকালে তাঁরা খুব সমস্যায় পড়েছেন। সালানপুর ব্লকের ডিভিসি লেফ্ট ব্যাঙ্ক বাংলা প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রভাত ঘোষ ও হিন্দি প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা কাঞ্চন সিংহ জানিয়েছেন, তাঁদের স্কুলের নামে গ্যাসের সংযোগ নেই।
ব্যক্তিগত ভাবে গ্যাস জোগাড় করে রান্নার কাজ চালানো হয়। কিন্তু যেখান থেকে গ্যাস আনা হয়, তারা এই মুহূর্তে গ্যাস দিতে পারবে না জানিয়েছে। ফলে বিকল্প হিসেবে কয়লার ব্যবস্থা করতে হয়েছে। বরাকরের পশ্চিম ভিক্টোরিয়া কোলিয়ারি প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রদীপ শর্মা জানালেন, তাঁদের একটি সিলিন্ডার সাত দিন চলে। সেটি শেষের মুখে। গ্যাস পাওয়া যাবে কি না, এই আশঙ্কায় তিনিও কয়লার উনুনের ব্যবস্থা করেছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান রথীন্দ্রনাথ মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সঙ্কট গভীরে রয়েছে। আমরা বিকল্প ব্যবস্থা নিতে জরুরি বৈঠক ডাকছি।’