সুনন্দ ঘোষ
বাড়তে বাড়তে বিশ্বের বাজারে বিমান জ্বালানির (Fuel Price Hike) দাম ব্যারেল প্রতি ১৫৭.৪১ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে। এই আবহে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিভিন্ন রাজ্য সরকার বিমান জ্বালানির দামের উপরে যে অতিরিক্ত কর বা সারচার্জ নেয়, তা তুলে নেওয়া বা কমানোর জন্য এয়ারলাইন্সগুলির (Airlines) তরফে আবারও দাবি উঠতে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধের আবহে পশ্চিম এশিয়ার (West Asia) আকাশ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে প্রভাব পড়তে শুরু করেছিল ভারতীয় এয়ারলাইন্সগুলির উপরে। তখন, এয়ারলাইন্সগুলির কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন দেশের বিমান মন্ত্রকের কর্তারা। সে বারেই দাবি উঠেছিল ফুয়েল সারচার্জ কমানোর। কেন্দ্র সরকার সরাসরি ১১ শতাংশ সারচার্জ নেয় জ্বালানির দামের উপরে। অর্থাৎ কলকাতা হোক বা দিল্লি — যখনই কোনও এয়ারপোর্টে কোনও বিমান জ্বালানি ভরছে, তখন তাকে জ্বালানির দামের উপরে কেন্দ্রকে অতিরিক্ত ১১ শতাংশ দিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে রাজ্যের আলাদা সারচার্জ। এবং সেই সারচার্জ কোথাও ১ শতাংশ তো কোথাও ২৯ শতাংশ!
এয়ারলাইন্সগুলির দাবি, ডোমেস্টিক ফ্লাইটের (Domestic Flights) ক্ষেত্রে মূলত মেট্রো শহর থেকে পেট ভরে জ্বালানি নিয়ে বিমান ওড়ে। এই অবস্থায় দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, আমেদাবাদে ফুয়েল সারচার্জ কমালে অনেকটাই স্বস্তি পাবে তারা। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত না কেন্দ্র, না রাজ্য — কারও তরফে সাড়া মেলেনি। সূত্রের খবর, দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সারচার্জ নেয় চেন্নাই — ২৯ শতাংশ। ত্রিচি, মাদুরাই–সহ দক্ষিণ ভারতের বেশ কিছু শহরও ২৯ শতাংশ সারচার্জ নিচ্ছে। দিল্লি নেয় ২৫ শতাংশ। তুলনায় মুম্বইয়ের সরকার নেয় ১৮ শতাংশ। কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার নেয় ২০ শতাংশ। বেঙ্গালুরু নেয় ১৮ শতাংশ। তুলনায় কম সারচার্জ নেয় হায়দরাবাদ, ১৬ শতাংশ। এই শহরগুলির মধ্যে সারচার্জ সবচেয়ে কম আমেদাবাদে, মাত্র ৫ শতাংশ।
দেশের মধ্যে একমাত্র শিলং বিমানবন্দরে জ্বালানি নিলে স্থানীয় এনপিপি সরকারকে একটা টাকাও সারচার্জ দিতে হয় না। ত্রিপুরা, মিজ়োরাম–সহ উত্তর–পূর্বের বহু রাজ্যই মাত্র এক শতাংশ সারচার্জ নেয়। দক্ষিণ ভারতের কালিকট, বিশাখাপত্তনমেও সারচার্জ ১ শতাংশ।
এয়ারলাইন্সের কর্তারা বলছেন, ‘কালিকট বা আগরতলায় সারচার্জ কম থাকলে আমাদের খুব সুবিধে নেই। কারণ, বেস স্টেশন থেকে ফ্লাই করার আগে নিয়ম মেনে ফুয়েল নিতে হয়। ধরুন, কলকাতা থেকে আগরতলার ফ্লাইট। নিয়ম অনুযায়ী, কলকাতা থেকে আগরতলা যাওয়ার, তার মাথার উপরে ৪০ মিনিট চক্কর কাটার, সেখান থেকে প্রথম বিকল্প এয়ারপোর্টে যাওয়ার, তারও মাথার উপরে ৪০ মিনিট চক্কর কাটার এবং শেষে সেখান থেকে দ্বিতীয় বিকল্প বিমানবন্দরে গিয়ে নামার মতো ফুয়েল নিতে হয়। তার মানে আগরতলা যেতেও বিমানের পেট–ভর্তি করে ফুয়েল নিতে হয় কলকাতা থেকেই। আগরতলা পৌঁছতে যতটুকু ফুয়েল খরচ হচ্ছে, সেটুকুই আবার আগরতলা থেকে তোলার অপশন থাকে। ফলে, আগরতলায় ১ শতাংশ সারচার্জ নিলেও আমরা তার লাভ ওঠাতে পারি না।’
এখন যুদ্ধের আবহে জ্বালানির দাম বাড়ছে। ইন্টারন্যাশনাল সেক্টরে অনেকটা ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছতে অতিরিক্ত ফুয়েল খরচ হচ্ছে। পাশাপাশি ডোমেস্টিকেও জ্বালানির জন্য অতিরিক্ত টাকা গুণতে হচ্ছে। এই অবস্থায় কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলি (যারা তুলনায় বেশি সারচার্জ নিচ্ছে) এগিয়ে এলে রক্তপাত কিছুটা কমবে বলে দাবি এয়ারলাইন্স কর্তাদের। বিমান পরিবহণের এক্সপার্ট সুদীপ্ত চন্দ্রও চাইছেন এই আবহে বিমান জ্বালানির উপরে সারচার্জ কমানো হোক। তিনি বলছেন, ‘আগরতলার মতো যেখানে সারচার্জ কম, সেখান থেকে টেক–অফ করার সময়ে যতটা সম্ভব জ্বালানি ভরে নেয় এয়ারলাইন্স। এটাই দস্তুর। একে বিমান পরিবহণের ভাষায় ফুয়েল ট্যাঙ্কারিং বলে। এতে সারা দিন একটা বিমান থেকে কিছুটা হলেও সুবিধে পায় এয়ারলাইন্সগুলি।’ তবে সুদীপ্তর মতে, সমস্ত রাজ্যে একই পরিমাণ সারচার্জ নেওয়া উচিত।