এই সময়: গ্যাসের আকালে স্কুলে–স্কুলে মিড–ডে মিল নিয়ে যে পরিস্থিতি হয়েছে, একই রকম সঙ্কটে কলকাতার সুবিখ্যাত হিন্দু হস্টেলও ( Hindu Hostel)। সেখানে মূলত প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের (Presidency University) ছাত্ররাই থাকেন। তিন দিন ধরে হাঁড়িই চড়েনি সেখানে! আবাসিক ছাত্ররা বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।
আবার কলকাতারই অন্তত তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে—১৬ নম্বর সার্কেলের বাস্তুহারা সমাজকল্যাণ, ইন্দ্রনারায়ণ এবং পল্লি উন্নয়ন ফ্রি প্রাইমারি স্কুলে বৃহস্পতিবার মিড–ডে মিলে (Mid Day Meal) রান্না করা খাবারের বদলে পাঁচ টাকার বিস্কুটের প্যাকেট দেওয়া হয়েছে বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন।
ইডেন হিন্দু হস্টেলে প্রায় ১৩০ জন আবাসিক রয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, তিন দিন ধরে গ্যাস সিলিন্ডার পাচ্ছিলেন না। বাজারে খোঁজখবরও করেছিলেন। কিন্তু বাণিজ্যিক সিলিন্ডার পিছু আড়াই হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। মূলত প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই থাকেন এখানে। কলকাতার বাইরে বিভিন্ন জেলা বা ভিন রাজ্য থেকে পড়তে এসে এখানেই থাকেন ছাত্ররা। হিন্দু হস্টেলের আবাসিক প্রেসিডেন্সির স্নাতকোত্তর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র আশিক রহমান বলেন, 'সিলিন্ডারের অভাবে তিন দিন রান্না হচ্ছে না। অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। ছ'টা গ্যাসের আবেদন করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটের সময়ে তিনটে গ্যাস সিলিন্ডার এসেছে। 'অন্য দিকে, কলকাতার বিভিন্ন স্কুলে কমিউনিটি কিচেন ক্যান্টিন থেকে বুধবার শুধু ডিম সেদ্ধ দেওয়া হয়েছিল। এ কথা জানতে পেরেই সরকারি তরফে পদক্ষেপ করা হয়। প্রয়োজনের তুলনায় বৃহস্পতিবার অর্ধেক গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া গিয়েছে। অধিকাংশ স্কুলেই প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের খিচুড়ি দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সমগ্র শিক্ষা মিশনের নির্দেশে চলতি মাসে পড়ুয়াদের অতিরিক্ত ডিম দেওয়ারও কথা। কলকাতার স্কুলগুলিতে শুক্রবার সেই ডিম দেওয়ার কথা। সে জন্যে গ্যাসের অপচয় না করে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
বিকাশ ভবনের এক আধিকারিক জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত কোনও স্কুলে মিড-ডে মিল বন্ধ রয়েছে বলে খবর নেই। সমস্যা আছে। তবে সমাধানের চেষ্টাও চলছে। সব জেলাশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্যে। সর্বস্তরে যোগাযোগ রাখার জন্যেও বলা হয়েছে। আবার শহরের তিনটি প্রাথমিক স্কুলে মিড–ডে মিলে বিস্কুট দেওয়া প্রসঙ্গে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারপার্সন কার্তিকচন্দ্র মান্নার মন্তব্য, 'খোঁজ নিয়ে দেখছি। বিস্কুটের প্যাকেট দেওয়া একেবারেই উচিত নয়। পডুয়াদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখে সব্জি–ভাত দিতেই হবে। সে রকম হলে খিচুড়ি দেওয়াযেতে পারে।'