• নির্বিঘ্নে ভোটের জন্য প্রত্যেক বিধানসভা কেন্দ্রে অবজ়ার্ভার চায় নির্বাচন কমিশন
    এই সময় | ১৩ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (সার) (SIR) ন‍িয়ে সংঘাত অব্যাহত দেশের নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও রাজ্য সরকারের। তার মধ্যে এ বার নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে টানাপড়েন। বাংলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে হিংসা ও রক্তপাত কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে আগেই একাধিকবার জানিয়েছে কমিশনের ফুলবেঞ্চ। অশান্তি নিয়ন্ত্রণে এ বার কমিশন প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য আলাদা করে সাধারণ পর্যবেক্ষক (Observer) নিয়োগের প্রস্তাবও বিবেচনা করছে। বাড়ছে পুলিশ পর্যবেক্ষকের সংখ্যাও। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অশান্তিপ্রবণ জেলাগুলিতে একাধিক পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে চায় কমিশন। কোনওরকম হিংসার ঘটনা ঘটলে তার জন্য যে রাজ্যের পুলিশ–প্রশাসনের আধিকারিকদের রেয়াত করা হবে না, সেটাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee) স্পষ্ট জান‍িয়ে দিয়েছেন, কমিশন যদি কাউকে ট্রান্সফার করে, তাতে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। সূত্রের দাবি, নবান্ন থেকে ভার্চুয়াল বৈঠকে মমতা বলেছেন, ‘ওরা ট্রান্সফার করলে আমরা প্রমোশন দেব। ভয় পাবেন না।’

    নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি গত বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামের ভোট গণনার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে জেলাশাসক, পুলিশ সুপারদের সতর্ক করে দেন ইভিএম নিয়ে। তাঁর বার্তা, ‘এ বারও ভোটে ইভিএম নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কোথাও যেন কারচুপি না হয়।’ কমিশনের ফুলবেঞ্চের বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, ‘ওই মিটিংয়ে কী হয়েছে, সবটাই আমি শুনেছি। প্রতিনিয়ত ভয় দেখিয়েছে। ভোট আসছে, এখন বেশি করে ওরা এসব করবে। আপনারা দায়িত্ব পালন করুন, কেউ কিছু করতে পারবে না।’ জেলাশাসকদের উদ্দেশে তাঁর সংযোজন, ‘ভোট আসছে। তাই শুক্রবারের মধ্যেই যুবসাথী প্রকল্পের টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।’ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমার কাছে খবর আছে, এখন থেকেই বহিরাগতরা বাংলায় ঢুকছে। বাইরের লোক ঢুকতে দেবেন না।’

    এ দিকে, কমিশন সূত্রের খবর, বাংলায় গত বিধানসভা ভোটে ২৮১ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল। এর মধ্যে সাধারণ পর্যবেক্ষক ছিলেন ১৬০ জন। এ ছাড়া পুলিশ পর্যবেক্ষক ৩৭ এবং এক্সপেন্ডিচার পর্যবেক্ষক ছিলেন ৮৭ জন। কমিশনের যুক্তি, সারা দেশে নির্বাচনে রক্তপাত বন্ধ হলেও একমাত্র বাংলায় তা বন্ধ করা যাচ্ছে না। পুলিশ–প্রশাসনের উপরে রাজনৈতিক প্রভাবই এর জন্য দায়ী বলে তাঁরা মনে করেন। তাই প্রথম থেকেই কিছুটা শক্ত হাতে লাগাম ধরতে চায় কমিশন। সূত্রের দাবি, অশান্তিপ্রবণ ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে এ বার কয়েকগুণ বেশি পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হবে। এ বারই প্রথম ইবি, আয়কর, শুল্ক, আবগারি, নার্কোটিক–সহ কেন্দ্র ও রাজ্যের ২৪টি এজেন্সিকে শুধু নিজেদের মধ্যে নয়, জেলাশাসক ও পুলিশ–প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    নজরদারিতে ওয়েবকাস্টিংকেও হাতিয়ার করতে চায় কমিশন। শুধু বুথে নয়, ভোটের আগে নাকা চেকিং থেকে নির্বাচনের দিন টহলরত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য কিউআরটি ভ্যানও ওয়েবকাস্টিংয়ের আওতায় থাকবে। যা সরাসরি কেন্দ্রীয় ভাবে নজরদারি করা হবে। কিউআরটি–র গাড়ি বন্ধ থাকলেও যাতে ক্যামেরা চালু থাকে, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ফলে অশান্তি মোকাবিলায় ওয়েবকাস্টিংয়ে পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজে খামতি বা গাফিলতি ধরা পড়লে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বার থেকে আর কেউই বুথে মোবাইল নিয়ে ঢুকতে পারবে না। এ বার ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের একশো মিটার দূরে রাজনৈতিক দলগুলি শিবির খুলতে পারবে। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে বুথে এনসিসি বা বয়েজ় স্কাউটের সদস্যদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিয়োগ করার চেষ্টা হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)