রেস্তোরাঁর বাটার চিকেন থেকে বিরিয়ানি, প্রায় সব খাবারেই জুড়ছে এ বার বাড়তি দামের কাঁটা। দেশের বিভিন্ন শহরে রান্নার গ্যাসের ঘাটতির অভিযোগ সামনে এলেও কেন্দ্র বারবার বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, কোনও সঙ্কট নেই, বাড়ানো হয়েছে LPG উৎপাদন। কিন্তু সময়ে কর্মাশিয়াল সিলিন্ডারের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা। এই পরিস্থিতিতে বাড়তি খরচের অজুহাত দিয়ে অনেক রেস্তোরাঁ এখন গ্রাহকদের বিলের সঙ্গে ‘LPG সারচার্জ’ বা অতিরিক্ত গ্যাস চার্জ যোগ করতে শুরু করেছে।
সম্প্রতি এমনই এক উদাহরণ দেখা গেল চেন্নাইয়ের বেশ কিছু রেস্তোরাঁর বিলে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেন্নাইয়ের একাধিক রেস্তোরাঁয় বিলের সঙ্গে ১৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া হচ্ছে। কোথাও আবার বিলের মধ্যে ‘LPG revision’, ‘fuel surcharge’ বা ‘gas supply issue charge’ খাতে আলাদা করে এই টাকা যোগ করা হচ্ছে। রেস্তোরাঁ মালিকদের দাবি, বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ কমে যাওয়ায় রান্নাঘর চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে। তার প্রভাব পড়ছে ভারতে এলপিজি আমদানি ও বিতরণ ব্যবস্থায়। এর ফলে অনেক রেস্তোরাঁ তাদের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম গ্যাস পাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক সরবরাহের মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সিলিন্ডার মিলছে বলে অভিযোগ।
রেস্তোরাঁ মালিকদের মতে, মাঝারি বা বড় আকারের একটি রেস্তোরাঁর প্রতিদিন ৬ থেকে ১০টি বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ কমে যাওয়ায় রান্নার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও মেনু কমিয়ে দিতে হচ্ছে, আবার কোথাও কিছু খাবার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ন্যাশনাল রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (NRAI)-এর পক্ষ থেকেও সদস্যদের জ্বালানি ব্যবহার কমাতে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে মেনু সাময়িকভাবে পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের মতে, যদি গ্যাসের সঙ্কট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ রেস্তোরাঁ ও কুইক সার্ভিস রেস্তোরাঁ (QSR) সরাসরি এর প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।
শিল্পমহলের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে রেস্তোরাঁগুলির পরিচালন ব্যয় আরও বাড়বে। তার প্রভাব পড়তে পারে খাবারের দামের উপরেও, যা শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদেরই মেটাতে হবে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সংসদে পেট্রল, ডিজ়েল, কেরোসিন বা এলপিজি-র কোনও ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে LPG জোগান স্বাভাবিক রাখতে অত্যাবশকীয় পণ্য আইন চালু করা হয়েছে। সংসদে বক্তব্য পেশের সময়ে মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়ে দেন, ভারতের কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। তাঁর বক্তব্য, ‘ডিজ়েল, পেট্রল বা কেরোসিনের কোনও ঘাটতি নেই। এই সব পেতে কোনও অসুবিধা হবে না এবং সারা দেশেই সাপ্লাই চেন সিস্টেম নির্বিঘ্নে কাজ করছে।’ পশ্চিম এশিয়ার উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা তৈরি হলেও দেশে LPG-র সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ঠিকঠাক রয়েছে। পাল্টা LPG সরবরাহে ঘাটতি নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার সরব বিরোধীরা।