• গ্যাসের সঙ্কট, জনসেবাতে থমকালেন ‘হসপিটাল–ম্যান’ পার্থ
    এই সময় | ১৩ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: দক্ষিণ কলকাতার পাঁচটি সরকারি হাসপাতালে গরিব রোগী-পরিজনের মুখে বিনামূল্যে দু’বেলা অন্ন তুলে দেন তিনি। গত প্রায় এক দশক ধরে দুপুরে আর রাতে ভাত–ডাল–সব্জি খাইয়ে চলেছেন ‘হসপিটাল–ম্যান’ (Hospital Man) পার্থ করচৌধুরী। লকডাউনের (Lock Down) প্রথম কয়েকটা দিন বাদ দিলে করোনার অতিমারী–পর্বও দমাতে পারেনি তাঁকে। কিন্তু এই প্রথম অনির্দিষ্টকালের জন্যে থমকে গেল পার্থর এই জনকল্যাণমূলক পরিষেবা। ‘এই সময়’কে তিনি বৃহস্পতিবার জানান, গ্যাস সিলিন্ডারের (LPG Cylinder Crisis) আকালে এ দিন থেকে তাঁর খাবার বিতরণ বন্ধ থাকছে আপাতত। ফলে মন খারাপ পেশায় পুলকার–চালক পার্থর।

    হাজরা মোড়ের অদূরে চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট (Chittaranjan National Cancer Institute) (সিএনসিআই) এবং লাগোয়া চিত্তরঞ্জন সেবাসদন হাসপাতাল দিয়ে শুরু করেছিলেন পার্থ। পরে যোগ হয় শম্ভুনাথ পণ্ডিত, এসএসকেএম, বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস (বিআইএন) এবং ভবানীপুর পুলিশ হাসপাতাল। রোজ এই পাঁচটি হাসপাতালের মধ্যে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে কোনও একটি হাসপাতালে অন্তত ১৫০ জন রোগী-পরিজনকে দুপুরের ও রাতের খাবার খাওয়ান তিনি। তাঁর দাবি, গত ১০ বছরে অন্তত পাঁচ লক্ষ মানুষকে এ ভাবেই খাবার খাওয়াতে পেরেছেন। নানা সামাজিক ও আর্থিক প্রতিবন্ধকতা সামলেও কাজটা চালিয়ে যাচ্ছিলেন পার্থ। কিন্তু এ বার আর পারলেন না!

    বৃহস্পতিবার পার্থ বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে মানুষের মুখে দু’মুঠো অন্ন তুলে দেওয়ার লড়াই আজ বন্ধ হলো। কারণ গ্যাসের সঙ্কট। অর্থের সঙ্গে লড়াই, গোড়ার দিকে স্থানীয় দোকানদারদের সঙ্গে লড়াই, প্রশাসনের সঙ্গে লড়াই, ঝড়–জল–রোদের সঙ্গে লড়াই, সর্বোপরি কোভিডের সঙ্গে লড়াই করেছি। কেউ আমায় আটকাতে পারেনি। আজ আমি হেরে গেলাম।’ তাঁর আক্ষেপ, সপ্তাহে দুটো করে গ্যাস সিলিন্ডার তাঁর পক্ষে এই পরিস্থিতিতে জোগাড় করা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, ‘নিয়মিত দু’বেলা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা ১৫০ মানুষ আমার পথ চেয়ে বসে থাকবেন আগামী কয়েক দিন, যতদিন না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তাঁরা রাস্তায় হাত পাততে পারবেন না, তাই তাঁদের হয়তো জল খেয়েই দিন কাটাবে!’

  • Link to this news (এই সময়)