এই সময়, পুরুলিয়া: এখন পলাশের মরশুম। আর এই সময়েই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো উধাও হয়ে গিয়েছে রান্নার গ্যাস। পলাশের বদলে চোখে সরষে ফুল দেখছেন পুরুলিয়ার (Purulia Tourist Spot) হোটেল ও রিসর্টের মালিকরা। ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছে না হোমস্টেগুলিও। বুক করে সিলিন্ডার না–পাওয়ায় প্রায় দ্বিগুন দামে অনেকে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
পুরুলিয়া জেলার প্রায় সব রিসর্ট এবং হোটেলেই ব্যবহার করা হয় বাণিজ্যিক সিলিন্ডার। গাছে গাছে পলাশ ডানা মেলতেই জেলায় পর্যটনে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। বাঘমুন্ডি লজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন–এর সভাপতি সুজিত কুমারের কথায়, ‘ঠিক এই সময়টাতেই এমন সঙ্কট অতীতে কখনও হয়নি। প্রায় প্রতিদিনই থাকছে পর্যটকদের ভিড়। তাঁদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে হিমসিম অবস্থা আমাদের।’ তিনি আরও জানালেন, একসময়ে কাঠের আগুনে রান্না করা হতো। বহু বছর সেই সবের পাট উঠেছে। এখন বাণিজ্যিক সিলিন্ডারই (Commercial Cylinders) ভরসা। অথচ তা একেবারেই অমিল। বাধ্য হয়ে আবার কাঠ ও কয়লার আগুনে রান্না শুরু করতে হচ্ছে। তাতে সময় লাগছে অনেক বেশি। খরচও বেড়েছে বিরাট। অবস্থা যা, তাতে আর এক সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বাঘমুণ্ডি এলাকার বহু অতিথি আবাস বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা তাঁর।
আড়শার গোয়ালিকচার একটি হোমস্টের ম্যানেজার বললেন, ‘আমাদের অতিথিরা যেমন রান্না খেতে চান, তেমন বানিয়ে দেওয়া হয়। সিজ়নে মাছ–মাংসের প্রায় দশ রকমের পদ তৈরি হয়ে থাকে। এ ছাড়াও নানা ব্যঞ্জন থাকে অর্ডার মতো। জ্বালানির প্রবল সমস্যায় এখন শুধুমাত্র ঘরোয়া অতি সাধারণ খাবার দেওয়া হচ্ছে। একটাই বাঁচোয়া, পর্যটকরা সমস্যার কথা বুঝতে পেরে হাসি মুখে তা মেনে নিচ্ছেন।’ গ্যাসের আকাল নিয়ে প্রবল চিন্তায় রয়েছে খাবারের দোকানগুলিও। পুরুলিয়ায় হোটেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অমিত ভকত বললেন, ‘বাণিজ্যিক সিলিন্ডার পাওয়া দুর্লভ হয়ে যাচ্ছে। জোগান একদমই নেই। বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। কিন্তু চট করে খাবারের দাম তো বাড়াতে পারছি না। ফলে লোকসান হচ্ছে।’
পুরুলিয়া হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন–এর সভাপতি মোহিত লাটার কথায় আবার ক্ষোভ, ‘ব্ল্যাকে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম চাইছে তিন হাজার টাকা। তাও পাওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসনকেও কোনও ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। যা অবস্থা, তাতে একের পর এক হোটেল শুধু রান্নার গ্যাস জোগাড় করতে না–পেরে বন্ধ হয়ে যাবে।’ পুরুলিয়ার একটি গ্যাস এজেন্সির কর্ণধার সৌমেন দত্ত বলেই দিলেন, ‘কমার্শিয়াল গ্যাস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই সমস্যায় পড়েছেন হোটেল মালিকরা। বহু হোটেল মালিক ফোন করছেন। গ্যাস না থাকলে কী করা যাবে!’ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য চাপ ব্যাপক বাড়ছে বলে স্বীকার করে তিনি জানালেন, সাপ্লাই এলেই তাঁরা বাণিজ্যিক গ্যাস বিলি করে দেবেন।