• গোবর গ্যাসে বাজিমাত, বেলুড় মঠে চলছে ভোগ রান্না
    এই সময় | ১৩ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, বেলুড়: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ (West Asia War) পরিস্থিতির জেরে সারা দেশে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ গৃহস্থ থেকে হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকরা। জ্বালানির সঙ্কটে নৈহাটির বড়মা–সহ বেশ কয়েকটি মন্দিরে ভোগ বিতরণ স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত যুদ্ধের কোনও আঁচ লাগেনি বেলুড় মঠে। এলপিজি সিলিন্ডারের (LPG Cylinder) জোগান কমলেও বিকল্প জ্বালানি দিয়ে হেঁশেল চালু রেখেছেন তাঁরা। বৃহস্পতিবারও বেলুড় মঠে যথারীতি ভোগ রান্না হয়েছে। রীতি মেনে এ দিনও পাতপেড়ে ভোগ খেয়েছেন ভক্তরা।

    বেলুড় শ্রীরামকৃষ্ণ মঠে রোজই প্রায় এক থেকে দেড় হাজার জনের ভোগ রান্না হয়। রবিবার সংখ্যাটা অনেক সময় দু’হাজার ছাড়িয়ে যায়। এছাড়াও মঠের আবাসিক সন্ন্যাসী ও অন্যদের জন্যও খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়। মধ্যাহ্নকালীন ভোগে খিচুড়ির পাশাপাশি থাকে ভাত, একাধিক তরিতরকারি, পায়েস–সহ বিভিন্ন ধরনের খাবার। এই সব খাবার বানাতে রোজ বিপুল পরিমাণ জ্বালানি লাগে। কিন্তু রান্নার গ্যাস নিয়ে যখন সবাই চিন্তিত, তখন কী ভাবে এত লোকের ভোগ রান্না হচ্ছে বেলুড় মঠে?

    বেলুড় মঠের হেঁশেলের দায়িত্বে থাকা মহারাজরা জানাচ্ছেন, এলপিজি ছাড়াও বেলুড় মঠের নিজস্ব বায়োগ্যাস প্লান্ট রয়েছে। তার জন্য রয়েছে নিজস্ব গোশালা। গোরুর বর্জ্য দিয়েই তৈরি হয় জৈব গ্যাস। সেটা রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য মঠে বড় সোলার প্যানেল বসানো রয়েছে। সেখান থেকে যে বিদ্যুৎ তৈরি হয়, তা দিয়ে জল গরম করা হয়। তার একটা অংশ রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয়। ফলে এলপিজি’র ঘাটতি হলেও বিকল্প জ্বালানি দিয়েই রান্নাঘরকে সচল রেখেছেন বেলুড় মঠ কর্তৃপক্ষ।

    বেলুড়ের মতোই দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে নিত্যদিন প্রায় তিনশো থেকে সাড়ে তিনশো মানুষ মায়ের ভোগ খান। এখানে মূলত গ্যাসেই ভোগ রান্না হয়। গ্যাসের সরবরাহ কমে গেলেও এখনই ভোগ বিতরণ বন্ধ হচ্ছে না জানিয়েছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। মন্দিরের অছি পরিষদের সম্পাদক কুশল চৌধুরী বলেন, ‘এখনও সঙ্কট আসেনি। এলে চিন্তা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।’ আদ্যাপীঠ মন্দিরে আশ্রমিক ছাত্রছাত্রী, সন্ন্যাসী, সাধারণ ভক্ত মিলিয়ে রোজ দু’বেলা প্রায় ১০ হাজার মানুষ ভোগ খান। মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ব্রক্ষ্মচারী মুরালভাই বলেন, ‘মায়ের আদেশ অনুযায়ী ৫০০ নরনারায়ণকে মায়ের প্রসাদ দিতেই হবে। তা না হলে মায়ের ভোগ দেওয়া সম্পূর্ণ হবে না। পরিস্থিতির মোকাবিলায় জৈব জ্বালানির সঙ্গে ডিজেলের উনুন ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

    এলপিজি সিলিন্ডারের অভাবে নৈহাটির বড়মার মন্দিরে আগামী সোমবার থেকে নিঃশুল্ক ভোগের প্রসাদ বিতরণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কমিটি। বর্ধমান শহরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী বলে পরিচিত সর্বমঙ্গলা মন্দিরে শুক্রবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ভোগ বিতরণ। মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আইনজীবী সঞ্জয় ঘোষ বলেন, ‘আমাদের গড়ে প্রতিদিন চারটে সিলিন্ডার লাগত। রোজ ভোগ পেতেন প্রায় ৪৫০ জন। রান্নার গ্যাস আর পাওয়া যাবে না বলে আপাতত ভোগ বিতরণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হলো। শুধুমাত্র মায়ের ভোগ রান্না হবে। জনাকুড়ির মতো হয়তো প্রসাদ পাবেন। তাঁরা সবাই মন্দিরের সেবাইত।’

  • Link to this news (এই সময়)