এক রাতের প্রবল ঝড়ে তছনছ ডুয়ার্স। ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত জলপাইগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা। উড়ে গিয়েছে বহু বাড়ির চাল। ঝড়ের জন্য দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট রেল স্টেশনের শেডের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফসল নষ্টের কারণে দিশেহারা চাষিরা।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধের পরে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ঝড়-বৃষ্টি হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ও বানারহাট ব্লকের বিভিন্ন অঞ্চল। ঝড়ের দাপটে বহু বাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে, কোথাও আবার সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ভেঙে পড়েছে বসতবাড়ি। ধূপগুড়ি ব্লকের বানারহাট এলাকার কেরানিপাড়ায় দশটি বাড়ি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। প্রবল ঝোড়ো হাওয়ায় বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে বাড়ির উপর। ঘরবাড়ির পাশাপাশি নষ্ট হয়েছে আসবাবপত্রও। সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানির খবর মেলেনি।
শুধু বাড়িঘরই নয়, ঝড়ে ক্ষতি হয়েছে বিভিন্ন পোল্ট্রি ফার্মের শেডেরও। বহু জায়গায় বড় বড় গাছ ভেঙে পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা শুক্রবার সকালেও বিদ্যুৎহীন। অন্য দিকে চালসা সংলগ্ন মহাবাড়ি এলাকায় ঝড়ের দাপটে রাস্তার উপরে গাছ ভেঙে পড়ায় রাত থেকেই বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। ওই এলাকাতেও ২০-২৫ টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। সকাল হতেই বাড়ির উপর পড়ে থাকা গাছ কেটে সরানোর কাজে নেমে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন এলাকার কৃষকরা। ধূপগুড়ি ও বানারহাট ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় গতরাত থেকে অবিরাম বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির জেরে বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি এখন জলের তলায়। খেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আলু, শিম, মটরশুঁটি। আগে থেকেই আলুর বাজারদর নিয়ে চিন্তায় ছিলেন কৃষকরা, তার উপরে এই দুর্যোগ তাঁদের আরও দিশেহারা করে তুলেছে।
শিলাবৃষ্টির তীব্রতায় বহু বাড়ির টিনের চাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও আবার ঝড়ে চাল উড়ে গিয়ে পড়েছে পাশের জমিতে। ফলে মাথার গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে অনেক পরিবার রাত কাটিয়েছেন খোলা আকাশের নীচে। সকাল পর্যন্ত এলাকায় বৃষ্টির দাপট অব্যাহত রয়েছে। আকাশে এখনও ঘন কালো মেঘের ঘনঘটা দেখা যাচ্ছে। ফলে আবার ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীরা এখন প্রশাসনের ত্রাণ ও সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন।