রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পশ্চিমবঙ্গ সফরে উদ্ভূত কেন্দ্র-রাজ্য রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের পারদ আরও চড়ল। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়ে দেখা করতে চেয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদরা। সূত্রের খবর, ‘সময়ের অভাব’ জানিয়ে সেই আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে রাইসিনা হিলসে। সংবাদ সংস্থা পি়টিআই জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে ফের রাষ্ট্রপতির ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট’ চেয়ে আবেদন জানিয়েছে তৃণমূল।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাষ্ট্রপতির কাছে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিল রাজ্যের শাসক দল। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৃণমূল সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়ে গত ৯ মার্চ আবেদন জানায়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে রাজ্যের আদিবাসী কল্যাণমূলক প্রকল্প সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করতে চান শাসক দলের সাংসদরা। সূত্রের খবর, তৃণমূল সুপ্রিমোর নির্দেশে রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন রাষ্ট্রপতি ভবনে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। তবে রাষ্ট্রপতির দপ্তর সময়ের অভাবের কারণ দেখিয়ে সেই সাক্ষাতের আবেদন খারিজ করে দেয় বৃহস্পতিবার বলে সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর। যদিও তৃণমূলের সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার জানিয়েছেন, ‘রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ব্রেকফাস্ট বৈঠকে আলোচনার জন্য সময় চাওয়া হয়েছে। এখনও সেই ব্যাপারে সময় দেয়নি রাইসিনা হিলস।’
সময় চেয়েও তৃণমূলের সময় না পাওয়ার খবরে রাষ্ট্রপতি Droupadi Murmu-র শিলিগুড়ি সফর ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। সম্প্রতি একটি আদিবাসী কল্যাণ সংক্রান্ত বেসরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি উত্তরবঙ্গে এসেছিলেন। ওই সফরের পরেই কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে প্রোটোকল নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয়।
প্রসঙ্গত, শিলিগুড়ির কাছে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি প্রশ্ন তোলেন, কেন বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা রাজ্যের কোনও মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি তিনি অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অভিযোগ করেন, এমন জায়গায় অনুষ্ঠান হওয়ায় অনেক আদিবাসী মানুষের পক্ষে সেখানে পৌঁছনো কঠিন হয়েছে। রাষ্ট্রপতি আরও ইঙ্গিত দেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারের আদিবাসী কল্যাণমূলক সুবিধা রাজ্যের সব মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর মন্তব্যের জেরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাষ্ট্রপতির মন্তব্য ‘রাজনৈতিক’ এবং তাঁর পদমর্যাদার সঙ্গে তা মানানসই নয়। তিনি দাবি করেন, অনুষ্ঠানটি বেসরকারি কোনও সংস্থা আয়োজন করেছিল। রাজ্য সরকারের তাতে সরাসরি কোনও ভূমিকা ছিল না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র-রাজ্য রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়ে। বিজেপি অভিযোগ তোলে যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাষ্ট্রপতির প্রতি যথাযথ সম্মান দেখায়নি, অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস পাল্টা অভিযোগ করে যে রাষ্ট্রপতির পদকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।