এই সময়, ময়নাগুড়ি: কোনও ভাবে লতাগুল্মের ঝোঁপে আটকে পড়েছিল একটি সম্বর হরিণ (Sambar Deer)। আহত অবস্থায় কাতরাচ্ছিল বুনোটি। খবর পেয়ে ছুটে যান বনকর্মীরা। জঙ্গলের (Forest) দুর্গম পথে গাড়ি চালিয়ে যাওয়া মুশকিল। তাই গাড়ি রেখে হেঁটেই রওনা দেন তাঁরা। এরপরে লতাগুল্মের ঝোঁপ থেকে হরিণটিকে উদ্ধার করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় বনকর্মীদের। শেষমেশ আহত বুনোটিকে উদ্ধার করে কাঁধে চাপিয়ে ফের জঙ্গলের রাস্তা দিয়ে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হলেন তাঁরা। এই মুহূর্তে সম্বর হরিণটির চিকিৎসা চলছে গোরুমারা ইকো ট্যুরিজ়ম রেঞ্জে (Gorumara Eco Tourism Range)।
বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে ময়নাগুড়ির রামসাই রেঞ্জের কাছে কালামাটির জঙ্গলে। খবর আসে একটি সম্বর হরিণ জখম অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তবে রাতের অন্ধকারে ওই দুর্গম বনে ঢোকা একপ্রকার দুঃসাধ্য। অগত্যা বৃহস্পতিবার সকালে হেঁটেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন রামসাই রেঞ্জের বনকর্মীরা। একার প্রচেষ্টায় বুনোটিকে উদ্ধার করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তাঁরা। তাই খবর দেওয়া হয় লাটাগুড়ি রেঞ্জে। এরপরে দুই রেঞ্জের বনকর্মীরা মিলে লতাগুল্মের ঝোঁপ থেকে হরিণটিকে উদ্ধার করেন। দীর্ঘক্ষণ পা ফেসে থাকায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল সম্বরটি। ফলে চলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে সে। এরপরে কাঁধে মাচা বানিয়ে সম্বরটিকে ততে বেঁধে দুর্গম জঙ্গলের পথ হেঁটে রওনা দেন বনকর্মীরা। শেষমেশ সফল ভাবেই তাঁরা সম্বরটিকে পৌঁছে দেন গোরুমারা ইকো ট্যুরিজ়ম রেঞ্জে। গোরুমারার অভিজ্ঞ পশু চিকিৎসক শ্বেতা মণ্ডল সেটির দেখভাল করছেন।
হরিণটি কী ভাবে ওই লতাগুল্মের ঝোঁপে আটকে পড়েছিল, তা এখনও জানা যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বন দপ্তর। এ ক্ষেত্রে হরিণটি শিকারির পাতা ফাঁদে পা দিয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জলপাইগুড়ি বনবিভাগের লাটাগুড়ির রেঞ্জার সঞ্জয় দত্ত বলেন, ‘আহত সম্বরটির প্রাণ রক্ষা করতে বনকর্মীদের এই প্রয়াস প্রশংসনীয়।’