এই সময়, কালনা: ডাবল সিলিন্ডারের একটি ছিল ফাঁকা। অন্যটিতে গ্যাস ছিল সামান্য। বুধবার বুকিং করেও সিলিন্ডার (LPG CYLINDER CRISIS) না–মেলায় বৃহস্পতিবার মিড–ডে মিল (Mid Day Meal) বন্ধ রাখতে হলো মন্তেশ্বর উত্তরপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (Monteshwar Uttarpara Primary School)। বদলে এ দিন ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হলো বিস্কুটের প্যাকেট। এই ছবি যে কোনও মুহূর্তে দেখা যেতে পারে যে কোনও স্কুলেই। নাদনঘাটের একটি স্কুল কর্তৃপক্ষ আবার ১২০০ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনে এখনকার মতো সামাল দিচ্ছেন। পরিস্থিতি যা, তাতে দূষণ হলেও কয়লার উনুনে ফিরতে হবে বলে মনে করছেন অনেক স্কুল কর্তৃপক্ষই।
কেন্দ্রের সরকার সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছে অনেকটাই। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সিলিন্ডারের ঘাটতি। ফলে মিড–ডে মিল রান্নার জন্য গ্যাসের জোগান ঠিক রাখা নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে অনেক বিদ্যালয়ের কাছেই। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যার নিরিখে এক একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড–ডে মিল রান্নার জন্য মাসে দুই থেকে পাঁচটি সিলিন্ডার লাগে। মন্তেশ্বর উত্তরপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১৭৬। প্রধান শিক্ষক বাপন দাস বৃহস্পতিবার বললেন, ‘দু’টি সিলিন্ডারের একটিতে সামান্য গ্যাস থাকায় রান্না হতে হতেই যে কোনও মুহূর্তে তা শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই এ দিন আর মিড–ডে মিল রান্নার ঝুঁকি নিইনি। একরকম বাধ্য হয়েই ছাত্রছাত্রীদের হাতে বিস্কুট তুলে দিতে হয়েছে।’
প্রধান শিক্ষক আরও বললেন, ‘শুক্রবার গ্যাস পেলে মিড–ডে মিল রান্না হবে। কিন্তু ২৫ দিনের আগে ফের বুকিং হবে না। তাই এই গ্যাসে কয়েক দিন চলার পরে কী হবে, তা জানি না।’ নাদনঘাটের মিনাপুর নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রসেনজিৎ সরকার বললেন, ‘মাসে পাঁচটা সিলিন্ডার লাগে। মিড–ডে মিল যাতে বন্ধ না হয়, তার জন্য এক একটা সিলিন্ডার ১২০০ টাকা দিয়ে দুটো জোগাড় করেছি। কিন্তু এ ভাবে আর ক’দিন টানতে পারব, জানি না।’ কালনার মহকুমাশাসক অহিংসা জৈনকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘এজেন্সিকে বলা হয়েছে সাপ্লাই নিশ্চিত করতে। বিডিও, স্কুল পরিদর্শকদেরও বিষয়টি দেখতে বলা হয়েছে।’