এই সময়, পুরুলিয়া: রান্নার গ্যাসের দাম (Cooking Gas Price) নাগালের বাইরে, সিলিন্ডারও অমিল। পরিস্থিতির বাধ্যবাধকতায় ডালপালাতেই ফিরছেন জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলির মানুষজন। করোনার আগে উজ্জ্বলা যোজনা প্রকল্প থেকে নিখরচায় দারিদ্র সীমার নিচে থাকা পরিবার পিছু মহিলা সদস্যের নামে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় ফের জঙ্গলকেই (Forest) তাঁদের ভরসা করতে হচ্ছে বলে জানাচ্ছে জঙ্গলমহল। দুই ছেলেমেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে জনা চারেকের সংসার বান্দোয়ানের ঠরকাদহ গ্রামের সঞ্চিতা হাঁসদার। স্বামী পেশায় দিনমজুর। দুটো পয়সা বাড়তি রোজগারের জন্য কখনও কখনও নিজেও স্বামীর সঙ্গে কাজে যান তিনি। জানালেন, সিলিন্ডার আর ওভেন সবই বিনা পয়সায় পেয়েছিলেন। তবে বেশ কিছু দিন ধরে গ্যাসের দাম মাঝেমধ্যে বাড়ায় নিয়মিত ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। তখন ডালপালা জ্বালিয়ে রান্না করেন।
এই সঙ্গেই সঞ্চিতা বললেন, ‘বর্ষার সময়ে ডালপালা, কাঠ সব ভিজে যায়। গত বর্ষার সময়ে গ্যাসে রান্নায় সুবিধা হয়েছিল। তাই এ বারও বর্ষায় গ্যাসে রান্নাবান্নার কাজ করব বলে ভেবেছিলাম। অন্য খরচ বাঁচিয়ে গ্যাস নেওয়ার ভাবনা ছিল। কিন্তু যে ভাবে দাম বেড়ে চলেছে, তাতে আমাদের মতো গরিবদের পক্ষে কেনা সম্ভব নয়। এ বারের বর্ষাতেও সেই জঙ্গলেই ছুটতে হবে।’
একই কথা বলছেন এই গ্রামেরই দিনমজুর পরিবারের বধূ বালিকা হাঁসদা। চার মেয়ে, এক ছেলে ও স্বামীকে নিয়ে ছ’জনের সংসার। বালিকার কথায়, ‘সবসময়ে যে গ্যাস ভরতে পারি তা নয়। তবে বর্ষায় গ্যাসে রান্নাবান্নার কাজে সুবিধা হয়। কিন্তু দাম অনেক বেড়ে গিয়েছে। এত দাম দিয়ে কী ভাবে গ্যাস কিনব!’ এই ব্লকেরই আসনপানি গ্রামের বাসিন্দা রঞ্জিত মুর্মুর গলায় ঝরে পড়ল আক্ষেপ, ‘গরিবের কপালে কি সুখ সয়! যে যা–ই বলুন, গরিবকে জ্বালানির জন্য সেই জঙ্গলেই যেতে হবে।’
এ প্রসঙ্গে রাজ্য তৃণমূলের (TMC) সাধারণ সম্পাদক সুজয় বন্দোপাধ্যায় বললেন, ‘বর্ষায় জঙ্গল থেকে জ্বালানির জন্য ডালপালা সংগ্রহে সমস্যা হয় বৈকি। রাজনীতিকে সরিয়ে রেখে এই পরিবারগুলির কথা ভেবে ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির জন্য ভর্তুকি দিয়ে যাতে কম দামে গ্যাসের সরবরাহ সচল রাখা যায়, কেন্দ্রের তা দেখা দরকার।’ রাজ্য বিজেপির এসটি মোর্চার প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক পারসি মুর্মুর পাল্টা বক্তব্য, ‘গ্যাসের দাম ৪৯৫ টাকা। কেন্দ্রের কর ২৪ টাকা ৭৫ পয়সা ও পরিবহণ খরচ ১০ টাকা। সেখানে রাজ্য সরকারের কর সিলিন্ডার প্রতি ২৯১ টাকা ৩৬ পয়সা ও পরিবহণ খরচ ১৫ টাকা। এর পরেও কি দাম নিয়ে রাজ্য সরকারের কিছু বলা সাজে?’