বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানো-সহ চার দফা দাবিতে শ্রমিক, কর্মচারী, শিক্ষকদের যৌথ মঞ্চ এবং সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের ধর্মঘট জেলায় জেলায়। কোথাও সরকারি অফিসের সামনে বিক্ষোভ, কোথাও অফিসে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ। ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি হয়।
এ দিন সকালে কলকাতায় খাদ্য ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ-সহ একাধিক সংগঠনের সদস্যরা। কাজে যোগ দিতে আসা সরকারি কর্মীদের তাঁরা বাধা দেন বলে অভিযোগ। তাতে ছড়ায় উত্তেজনা। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানায় প্রশাসন।
ধর্মঘট সফল করতে সকাল থেকেই মেদিনীপুর শহরের রাস্তায় নেমেছেন সরকারি কর্মচারী সংগঠনের সদস্যরা। মেদিনীপুর শহরে মিছিল করে জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে গেট আটকে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। এ দিন সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ (বালক) এবং বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা। শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তবে, স্কুল কর্তৃপক্ষ পড়ুয়াদের স্কুলে ঢোকানোর ব্যবস্থা করেন।
ধর্মঘট নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায় পুরুলিয়াতেও। পুরুলিয়া জেলাশাসকের দপ্তরে এবং জেলা শিক্ষা দপ্তরে ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কর্মী সমর্থক ও ধর্মঘটকারীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। একদিকে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্যরা ধর্মঘটের সমর্থনে সরকারি কর্মীদের দপ্তরে প্রবেশে বাধা দেন। পাল্টা তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা সেখানে উপস্থিত হয়ে ধর্মঘটের বিপক্ষে সামিল হয়ে সরকারি কর্মীদের ওই দপ্তরে প্রবেশ করাতে থাকে। ঘটনায় দু’পক্ষের মধ্যে বচসা ও ধস্তাধস্তি বেধে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
মালদা জেলায় সকাল থেকেই একাধিক সরকারি স্কুল বন্ধ রেখে বিক্ষোভ দেখান সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের শিক্ষিক এবং শিক্ষিকারা। সেই সঙ্গে মালদা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ দপ্তরেও রীতিমতো তালা মেরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এর প্রতিবাদ জানিয়ে সোচ্চার হয় তৃণমূল পরিচালিত সরকারি সংগঠন রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন। তাকে ঘিরে কিছুক্ষণের জন্য একেবারে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে জেলা শিক্ষা ভবন চত্বর। দুই সংগঠনের মধ্যে হাতাহাতি সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খায় পুলিশ। যদিও পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।