এই সময়: বাম আমলে নির্দিষ্ট সময়ান্তর বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার সর্বোচ্চ সংস্থা কোর্টে নির্বাচিত প্রতিনিধি পাঠানো হতো। কিন্তু রাজ্যে পরিবর্তনের সেই নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়। গত ১৬ বছরে এই প্রথম রাজ্যের কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধিরা সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংস্থায় গেলেন। শিক্ষামহলের বক্তব্য রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে পথ দেখালো যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University)।
রাজ্যে তৃণমূলের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আইনে হয় পুরোপুরি পরিবর্তন অথবা সংযোজন–বিয়োজন করা হয়। তারপর থেকেই কোর্ট এবং এগজ়িকিউটিভ কাউন্সিলে নির্বাচন প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তা নিয়ে মাঝে মধ্যেই আন্দোলন, অবরোধ, হরতাল হয়েছে রাজ্যের নানা প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু রাজ্য সরকারের অনমনীয় মনোভাবের কারণে সেই নির্বাচন কখনওই হয়নি। অতি সম্প্রতি যাদবপুরের শিক্ষকরা লাগাতার ধর্না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্ট ও ইসিতে নির্বাচনের দাবি আদায় করে আনেন। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডল একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন আর্টস, সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং মিলিয়ে মোট ১৭ জন নির্বাচিত শিক্ষক কোর্টের প্রতিনিধিত্ব করবেন। অবশ্য অন্য কোনও পক্ষ এই নির্বাচনে প্রার্থী দেননি। ফলে যাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন তাঁরা প্রত্যেকেই শিক্ষক সংগঠন জুটার সক্রিয় সদস্য বলেই জানাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকে।
যদিও এই নির্বাচনকে অগণতান্ত্রিক অ্যাখ্যা দিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) মামলা দায়ের করেছে আরেকটি শিক্ষক সংগঠন আবুটা। তাদের তরফে অধ্যাপক গৌতম মাইতি বলেন, ‘এটা এখন বিচারাধীন বিষয়। ফলে আদালতের কাছেই এই অগণতান্ত্রিক, বেআইনি নির্বাচনের জবাব কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে।’ যদিও কোর্টে সদ্য নির্বাচিত প্রতিনিধি জুটার সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় বলেন, ‘নানা ধরনের বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে, আর্থিক অভাব, নানা সমস্যা এবং সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারের পক্ষে আওয়াজ ওঠানোই হবে আমাদের মূল উদ্দেশ্য।’