• পণের জন্য অত্যাচারের অভিযোগ উঠলেই কড়া পদক্ষেপ, আইনি ব্যবস্থার সঙ্গে নয়া শাস্তি জুড়বে রাজস্থানে
    এই সময় | ১৪ মার্চ ২০২৬
  • ১৯৬১-তে পণপ্রথা বিরোধী আইন চালু হলেও হাজার হাজার ‘নিরুপমা’রা আজও ‘দেনাপাওনা’-র আগুনে ঝলসে মরে। এই প্রবণতা বন্ধ করতেই যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল রাজস্থান সরকার। পণপ্রথার বিরুদ্ধে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে সে রাজ্যের সরকার জানিয়েছে, পণের দাবির অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত পরিবারের LPG গ্যাস সংযোগ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

    একটি সর্বভারতীয় সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজস্থানের নারী নির্যাতন ও পণ সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত পরিবারগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ভজন লাল শর্মার সরকার। রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যদি কোনও ব্যক্তি বা পরিবারের বিরুদ্ধে পণের জন্য হয়রানি (dowry harassment)-এর অভিযোগে মামলা হয় এবং তদন্তে তা সত্য প্রমাণিত হয়, তা হলে তাদের রান্নার গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

    রাজ্য প্রশাসনের মতে, পণপ্রথা বন্ধ করতে কেবল আইনি ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়, সামাজিক ও প্রশাসনিক চাপও জরুরি। তাই এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে পণ দাবির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতে চায় সরকার।

    অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পণ সংক্রান্ত অভিযোগ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ ধারা এবং Dowry Prohibition Act, 1961-এর আওতায় নথিভুক্ত হয়। রাজস্থানে এ ধরনের মামলার সংখ্যা বাড়তে থাকায় প্রশাসন আরও কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবছে বলে জানা গিয়েছে।

    সরকারি সূত্রের মতে, নারীর ওপর নির্যাতন বা পণের জন্য চাপ দেওয়ার মতো ঘটনাকে রুখতে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা ও পরিষেবার সঙ্গে আইনি মামলার তথ্য যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। LPG সংযোগ বন্ধের হুঁশিয়ারি তারই একটি অংশ।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে প্রকাশিত হওয়া সাম্প্রতিকতম National Crime Records Bureau-এর রেকর্ড অনুযায়ী, ভারতে ২০২৩ সালে পণপ্রথার কারণে প্রাণ হারিয়েছেন ৬,১৫৬ জন মহিলা। পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে প্রতিদিন প্রায় ১৭ থেকে ২০ জন মহিলার পণের জন্য নির্যাতনের কারণে মৃত্যু হয়। Dowry Prohibition Act, 1961-এর আইনের আওতায় নথিভুক্ত মামলার সংখ্যা ১৪% বৃদ্ধি পেয়েছে , যা ২০২২ সালে ১৩,৪৭৯টি থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে ১৫,৪৮৯টিতে পৌঁছেছে।

    সরকারের মতে, নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং পণপ্রথার বিরুদ্ধে সামাজিক বার্তা দিতে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হতে পারে।

  • Link to this news (এই সময়)