• ‘হনুমান টুপি পরে…’, কেন ছদ্মবেশ নিতে হয়েছিল রাজীবকে? মুখ খুললেন প্রাক্তন মন্ত্রী
    এই সময় | ১৪ মার্চ ২০২৬
  • শিলাদিত্য কর

    বছর পাঁচেক আগের কথা। শিয়রে নির্বাচন। তার ঠিক কয়েকমাস আগে চাটার্ড ফ্লাইট করে দিল্লি উড়ে গিয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। জোড়াফুলের সঙ্গে সম্পর্কে ছেদ পড়েছিল আগেই। দলনেত্রীর ছবি বুকে নিয়ে পদত্যাগ জমা দিয়েছিলেন বিধানসভায়। রাজনৈতিক জীবনের দ্বিতীয় ইনিংসে পদ্ম ফোটাতে চেয়েছিলেন নদীমাতৃক বাংলায়। যদিও গেরুয়া শিবিরে বেশিদিন মনে টেকেনি। ‘প্রায়শ্চিত্ত’ করার শর্ত মেনে ফেরেন ‘দিদি’র দলেই। তৃণমূল কংগ্রেসে শুরু হয় নিজের সাংগঠনিক দক্ষতা প্রমাণের পালা। নতুন দায়িত্ব সামলাতে নিতে হয়েছে ছদ্মবেশও। এই সময় অনলাইন-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সেই কথাই শোনালেন তিনি।

    দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে পাঠিয়েছিলেন উত্তর-পূর্বের অঙ্গরাজ্যে। সেই রাজ্যের সঙ্গে বাংলার মিল কম নয়। সেই রাজ্যের প্রচুর মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন। সেই রাজ্যেও বহুদিন টিকেছিল লাল দুর্গ। বিজেপিশাসিত রাজ্যে তৃণমূলের আধিপত্য বিস্তারের দায়িত্ব পেয়ে ব্যাগ গুছিয়ে ত্রিপুরা পাড়ি দিয়েছিলেন রাজীব।

    শত্রু শিবিরের নিজের মাঠে লড়াইটা সহজ ছিল না। রাজীবের কথায়, ‘দল আমাকে ত্রিপুরায় দায়িত্ব দিয়েছিল। আমি যদি কোনওদিন বই লিখি— এই অধ্যায়টা থাকবে। ছদ্মবেশে আমাকে ঘুরতে হয়েছে। রাতের অন্ধকারে একটা হোটেল থেকে অন্য হোটেলে উঠতে হয়েছে। গাড়ি থেকে নেমে রিক্সায় লুকিয়ে যেতে হয়েছে। এরকম একটা পরিস্থিতি ছিল ত্রিপুরায়।’

    রাজ্যে বিরোধীদের ‘জায়গা’ দেওয়া হয় না বলে বারবার অভিযোগ ওঠে বঙ্গভূমিতে। সেই একই অভিযোগ ছিল ত্রিপুরাতেও। তৃণমূল জমি শক্তি করছে জানতে পেরেই রাজনৈতিক ‘দাদাগিরি’ শুরু করে বিজেপি বলে দাবি রাজীবের। সংগঠন তৈরি করতেই তাঁকে ‘ছদ্মবেশ’ নিতে হতো বলে দাবি করেন রাজীব। তাঁর কথায়, ‘তৃণমূল কংগ্রেস নামটা শুনলেই আমাদের তাড়া করত, আমাদের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাককে তাড়া করা হতো। আমি ইনচার্জ, আমার উপরে নজর রাখা হতো। কিছু ভালো পুলিশ ছিলেন, তাঁরা আমায় খবর দিতেন। আমি হনুমান টুপি পরে, মাস্ক পরে গাড়ি থেকে নেমে টোটোয় যাতায়াত করতাম।’ দলের নির্দেশেই প্রায় দুই বছর ‘ত্রিপুরা অভিযান’-এ সামিল ছিলেন রাজীব।

    কয়েকমাসের মধ্যেই ‘মিশন বাংলা’। হোম গ্রাউন্ডে দল যা নির্দেশ দেবে, সেটা মেনেই কাজ করবেন। ‘পরীক্ষিত’ রাজীব কি বড় দায়িত্ব পাবেন ২৬-এর নির্বাচনে? সময়ে উত্তর মিলবে।

  • Link to this news (এই সময়)