ভোটের আগে রাজ্যে উদ্ধার প্রায় ৫ কোটি টাকার মাদক, গ্রেফতার একাধিক
আজ তক | ১৪ মার্চ ২০২৬
ভোটের আগে রাজ্যে মাদকচক্রের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য STF-এর। একাধিক জেলায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪.৭৯ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার করল পুলিশ। সম্প্রতি একাধিক জেলায় ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার করা হয়েছে বেশ কয়েকজন পাচারকারীকেও। ভেঙে দেওয়া হয়েছে একাধিক মাদক সরবরাহ চক্র।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে তিনটি বড় অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে STF। এই তিনটি ঘটনাই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয় মাদক পাচার নেটওয়ার্কের উপর বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর এলাকায়। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বহরমপুর থানার পুলিশ একটি বিশেষ অভিযান চালায়। সেই অভিযানে ৫৫৪ গ্রাম আফিম উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম আনারুল শেখ, নাসিরুদ্দিন এবং সাহাবুদ্দিন শেখ। পুলিশ জানায়, এরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই গ্রেফতারের ফলে একটি স্থানীয় মাদক সরবরাহ চক্র ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
দ্বিতীয় বড় অভিযানটি ঘটে রাজারহাট এলাকায়। সেখানে একটি গাড়িকে আটক করে তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেই গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ২৩১.৬৪ কেজি গাঁজা। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে গাড়ির চালক রেজ্জাক মিয়া এবং তার সহযোগী প্রসেনজিৎ মজুমদারকে। পুলিশ মনে করছে, এত বড় পরিমাণ গাঁজা পাচারের ঘটনায় একটি সুসংগঠিত আন্তঃজেলা পাচার চক্র জড়িত থাকতে পারে। তদন্তকারীদের ধারণা, উত্তরবঙ্গের পরিবহণ করিডর ব্যবহার করেই এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার চালিয়ে আসছিল।
তৃতীয় অভিযানটি চালানো হয় শিলিগুড়িতে। সেখানে STF-এর বিশেষ অভিযানে উদ্ধার করা হয় ১.২২৪ কেজি ব্রাউন সুগার। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে সাদ্দাম হোসেন এবং রোজিনা বিবি ওরফে সেবিনা নামে দুই অভিযুক্তকে।
ধৃতদের বিরুদ্ধে নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস (NDPS) আইন, ১৯৮৫ অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে এই পাচারচক্রগুলির আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং বৃহত্তর সিন্ডিকেটের সঙ্গে তাদের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই চক্রের সঙ্গে আরও বহু ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে।
পুলিশের এক আধিকারিক জানান, পশ্চিমবঙ্গ ভৌগোলিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট করিডর হওয়ায় বহু সময় আন্তঃরাজ্য এবং আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীরা এই পথ ব্যবহার করার চেষ্টা করে। তাই এই ধরনের অভিযান শুধু মাদক উদ্ধার নয়, বরং সমাজকে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, আগামী দিনেও মাদক পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।