• শিলিগুড়িতে ডাম্পার থেকে তোলা আদায়ের চেষ্টা, না দেওয়ায় ভাঙচুরের অভিযোগ
    আজ তক | ১৪ মার্চ ২০২৬
  • Siliguri Extortion News 2026: শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল ‘গুন্ডা ট্যাক্স’-এর সংস্কৃতি। দাবি মতো লক্ষ লক্ষ টাকা দিতে অস্বীকার করায় তিনটি ডাম্পারের কাঁচ পাথর দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল একদল মত্ত যুবকের বিরুদ্ধে। বুধবার রাতে মাটিগাড়া থানার গোসাইপুর মোড় সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খোদ শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ এলাকার মধ্যেই দুষ্কৃতীদের এমন বেপরোয়া তাণ্ডবে ব্রাত্য হয়ে পড়েছে সাধারণের নিরাপত্তা। এই ঘটনায় পুলিশি নজরদারি নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গাড়ি মালিকরা।

    ডাম্পার মালিক অজিত কুমার মিশ্রের অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার রাতে তাঁর চারটি ডাম্পার রঙ্গিয়া থেকে তারাবাড়ির দিকে যাচ্ছিল। গোসাইপুরের টার্নিংয়ের কাছে পৌঁছাতেই একদল যুবক হঠাৎই গাড়িগুলোর পথ আটকায়। অভিযোগ, ডাম্পার প্রতি মাসে এক লক্ষ টাকা হিসেবে মোট চার লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। গাড়ি আটকে রেখে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে দুষ্কৃতীদের জুলুমবাজি। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় শুরু হয় তাণ্ডব। পাথর ছুড়ে একের পর এক ডাম্পারের কাঁচ ভেঙে চুরমার করে দেয় অভিযুক্তরা।

    এই ঘটনায় বাপ্পু রায় নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি মাটিগাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, বাপ্পু ওই এলাকায় একটি পোল্ট্রি ফার্মে কাজ করলেও আদতে সে অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গেই যুক্ত। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে জনবহুল এলাকায় এমন দুঃসাহসিক কাণ্ড ঘটানোর পেছনে কোনো প্রভাবশালী ‘বড় শক্তি’র হাত থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মালিক। তাঁর প্রশ্ন, প্রকাশ্য রাস্তায় এভাবে তোলাবাজি চললে ব্যবসা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

    মাটিগাড়া ও সংলগ্ন এলাকায় ডাম্পার আটকে টাকা চাওয়া বা চালকদের মারধরের ঘটনা নতুন নয়। মাস কয়েক আগেই একই কায়দায় এক চালককে মারধরের খবর মিলেছিল। আবার আট মাস আগে শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডেও একই ধরনের ভাঙচুরের সাক্ষী ছিল শহরবাসী। বারবার কেন এই ধরণের ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, রাতের টহলদারি শিথিল হওয়ায় দুষ্কৃতীদের সাহস বাড়ছে।

    শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসিপি (ইস্ট) রাকেশ সিং জানিয়েছেন, ঘটনার প্রেক্ষিতে সুনির্দিষ্ট তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকা জুড়ে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। তবে বাপ্পু রায় বা তার সঙ্গীরা এখনও ফেরার। এই ধরণের ‘তোলাবাজি’ বা ‘গুন্ডা ট্যাক্স’ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যদিও ঘটনার কয়েক দিন পার হতে চললেও মূল অভিযুক্ত অধরা থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায়।
  • Link to this news (আজ তক)