কথায় কথায় তাঁর মুখে উঠে আসে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর কথা। আরও নির্দিষ্ট করে বললে নেহরুর ‘ভুল-ভ্রান্তি’র ফিরিস্তি। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের আবহে শুক্রবার কংগ্রেস দলকে সেই নেহরুর কথাই শোনার পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ দিন গুয়াহাটিতে একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, যুদ্ধের আবহে মিথ্যা ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে কংগ্রেস পার্টি। তাঁর দাবি, যেখানে BJP-র নেতৃত্বাধীন NDA সরকার কৃষকদের স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করছে, সেখানে সঙ্কটের সময়েও ‘দেশবিরোধী মানসিকতা’-র পরিচয় দিচ্ছে কংগ্রেস।
কংগ্রেস সদস্যদের জওহরলাল নেহরুর ১৫ অগস্ট লাল কেল্লায় দেওয়া ভাষণ শোনার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, নেহরু একবার বলেছিলেন উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধের কারণে ভারতে মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। মোদীর প্রশ্ন, কোরিয়া এত দূরে হওয়া সত্ত্বেও যদি নেহরু যুদ্ধের প্রভাব স্বীকার করতে পারেন, তবে বর্তমান কংগ্রেস কেন পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে দেশকে বিভ্রান্ত করছে?
মোদী অভিযোগ করেন, কংগ্রেস কৃষকদের মধ্যে গুজব ছড়াচ্ছে যে, নির্বাচনের পরে ‘পিএম কিষান সম্মান নিধি’র টাকা ফেরত দিতে হবে। তিনি দাবি করেন, কোভিড মহামারি বা বিশ্বজুড়ে চলা যুদ্ধের কোনও প্রভাব ভারতের কৃষিক্ষেত্রে যাতে না পড়ে, তা নিশ্চিত করেছে তাঁর সরকার। বিশ্ব বাজারে সারের দাম বাড়লেও সরকার কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করেছে। এই ক্ষেত্রে কংগ্রেস দশকের পর দশক ধরে ভারতকে বিদেশের উপরে নির্ভরশীল করে রেখেছিল। কৃষকদের কল্যাণই তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাষণের মধ্য দিয়ে মোদী বোঝাতে চেয়েছেন, আন্তর্জাতিক সঙ্কটের কারণেই দেশে মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। এই ভাবে তিনি মূল্যবৃদ্ধি সংক্রান্ত ক্ষোভ প্রশমিত করতে চেয়েছেন।
এ ছাড়া, কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের অভিযোগ, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে গিয়ে দেশের কৃষকদের স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়েছেন মোদী। কৃষকরাই তাঁর অগ্রাধিকার বলে বিরোধীদের সেই অভিযোগের মোকাবিলা করতে চেয়েছেন তিনি।
কিন্তু, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় সারের জোগানের ক্ষেত্রেও বড় সমস্যা হতে পারে বলে শঙ্কা বিশ্লেষকদের। কারণ মোদী যা-ই বলুন, আজও আমদানীতে ভারত বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে আছে। আর এর অধিকাংশই আসে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, সৌদি আরব, ওমানের মতো পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে। শুক্রবারই যদিও ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলিকে হরমুজ় প্রণালী অতিক্রমের ছাড়পত্র দিয়েছে ইরান।