• শিক্ষকহীন স্কুলে শুধুই খেলা, লেখাপড়া লাটে উঠেছে, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা
    এই সময় | ১৪ মার্চ ২০২৬
  • বাবলু সাঁতরা ঘাটাল

    স্কুল আছে। স্কুলের পরিকাঠামো নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই। পড়ুয়ার সংখ্যাও ৩০। অথচ, দিন ১৫ থেকে ঘাটালের ইড়পালা মুণ্ডুতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লেখাপড়া শিকেয় উঠেছে। বন্ধ মিডডে মিলও (Mid day Meal)। এমনটাই অভিযোগ পড়ুয়া ও অভিভাবকদের।

    কেন এমন অবস্থা?

    পড়ুয়ারা সমস্বরে বলছে, ‘কেন আবার! স্কুলে যে পড়ানোর কেউ নেই।’ কথাটা যে নেহাত কথার কথা নয় তা কবুল করছেন স্কুল পরিদর্শক ও ব্লক প্রশাসনের কর্তারাও।অতএব, ঘড়ি-ঘণ্টা ধরে পড়ুয়ারা স্কুলে আসছে। হইহই করে খেলাধুলো করছে। দুপুরের পরে যে যার মতো বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। পড়ুয়াদের মতোই নিয়ম করে স্কুলে আসছেন মিডডে মিলের রাঁধুনিরা। কিন্তু রান্না না করেই ফিরতে হচ্ছে তাঁদেরও। এমন ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।

    স্কুল শিক্ষা দপ্তর (School Education Department) সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ঘাটালের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একমাত্র শিক্ষিকা হিসাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন টিআইসি পূজা নন্দী সামন্ত। কিন্তু গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়েছেন। স্কুলের পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘাটালের খাসবাড় বোর্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গণেশচন্দ্র বাগকে জরুরি ভিত্তিতে ডেপুটেশনে মুণ্ডুতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন ঘাটাল বিদ্যাসাগর চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক বহ্নিশিখা দে। কিন্তু ওই শিক্ষক ডেপুটেশনে স্কুলে যোগ দেননি।

    আর তার জেরেই বিপাকে পড়েছে মুণ্ডুতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। দ্রুত বিকল্প শিক্ষকের দাবিতে সরব হয়েছেন অভিভাবকরা। মিঠু গায়েন, সোমা বেরার কথায়, ‘স্কুলের একমাত্র শিক্ষিকা ছুটিতে। বিকল্প কোনও শিক্ষক বা শিক্ষিকা নেই। ছেলেমেয়েরা স্কুলে আসছে। খেলাধুলো করে বাড়ি ফিরে আসছে। পড়াশোনা তো হচ্ছেই না, মিডডে মিলও বন্ধ। স্কুলে এক জন অন্য শিক্ষকের আসার কথা শুনেছিলাম। কিন্তু তিনিও তো আসেননি। আমরা চাই, খুব শিগ্‌গির এই সমস্যার সমাধান হোক।’ এই ক’দিন নিয়ম করে স্কুলে গিয়ে ক্লাসরুমের তালা খোলা, স্কুল পরিষ্কারের মতো কাজ করছেন মিডডে মিলের রাঁধুনি শ্যামলী বেরা। তিনি বলছেন, ‘ছেলেমেয়েদের মতো আমিও নিয়মিত স্কুলে আসছি। রান্নাবান্নাও সব বন্ধ। দুপুর ১২টা-১টা পর্যন্ত বসে থাকছি। তারপরে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। জানি না, এই অবস্থা কত দিন চলবে!’

    বহ্নিশিখা দে বলেন, ‘স্কুলের একমাত্র শিক্ষিকা মেটারনিটি লিভে রয়েছেন। ওই স্কুলে এক জন শিক্ষককে ডেপুটেশনে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি যোগ দেননি। গোটা বিষয়টি জেলায় জানানো হয়েছে। এ বার যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ডিআই অফিস থেকে নেবে।’ ঘাটালের বিডিও (Ghatal BDO) অভীক বিশ্বাস বলছেন, ‘এসআই ম্যাডাম চেষ্টা করছেন বিকল্প এক জন শিক্ষক দেওয়ার। বিষয়টি আমিও দেখছি। জেলা শিক্ষা দপ্তরে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

  • Link to this news (এই সময়)