এই সময়: বাড়িটি বিপজ্জনক বলে ঘোষণা করা হয়েছিল আগেই। যে কোনও সময়ে ভেঙে পড়তে পারে। পুরসভা নোটিস দেওয়ার পরেও সেই কথা কানে তোলেননি উত্তর কলকাতার জোড়াসাঁকোর (Kolkata Jorasanko) ১০৪এ এমএম বর্মন স্ট্রিটের বাসিন্দারা। ওই বাড়িটিকেই তাঁরা নিরাপদ আশ্রয় বলে মেনে নিয়েছিলেন। আবার সেই অবস্থাতেই বাড়িটি ভাঙার কাজ শুরু করেছিলেন প্রোমোটার। শুক্রবার সকালে সেই জরাজীর্ণ বিপজ্জনক বাড়ির একাংশ ভেঙে আটকে পড়লেন জনা বাইশেক বাসিন্দা। পুলিশ ও দমকলের (Fire Brigade) তরফে দ্রুত তাঁদের উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হয়। তবে এ দিন কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয়রা দাবি করেন, বাড়িটির বয়স আশি বছরেরও বেশি। বয়সের ভারে দীর্ঘ দিন ধরে জীর্ণ হয়ে পড়েছিল বাড়িটি। শুক্রবার সকালে তাঁরা একটা বিকট আওয়াজ শুনে ওই বাড়ির সামনে গিয়ে দেখতে পান, বাড়িটির সিঁড়ির একাংশ ভেঙে পড়েছে। যদিও পরে পুলিশ জানায়, সিঁড়ি নয়, ভেঙে পড়েছে দেওয়ালের একাংশ। বাড়ির গায়ে পুরসভা অনেক আগেই বিপজ্জনক নোটিস লাগিয়েছিল। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় এক প্রোমোটার বাড়িটি ভাঙার কাজ শুরু করে ছিলেন মাস খানেক আগে। বাসিন্দারা থাকা অবস্থাতেই বাড়িটি ভাঙা হচ্ছে বলে জানিয়ে পুরসভার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় কাউন্সিলারের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল।
৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার মহম্মদ জসিমউদ্দিন বলেন, ‘প্রোমোটারের বাড়ি ভাঙার কথা আমি পরে শুনেছি। বিপজ্জনক বাড়ি ঘোষণা করার পরে কী করে প্রোমোটার বাড়ি ভাঙছিলেন, সেটা খতিয়ে দেখে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। প্রয়োজনে পুলিশকেও জানানো হবে।’ মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্য, ‘পুরসভার তরফে বার বার বলা হয়েছে এই ধরনের বাড়ি সংস্কার করার জন্য বিল্ডিং বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। ভাড়াটেদের অকুপেন্সি সার্টিফিকেট দিয়ে সংস্কারের পরে তাঁদের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’ তাঁর সংযোজন, ‘এরপরেও কেন এমন হলো, তার জন্য তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জসিমুদ্দিন জানান, এ দিন ওই বাড়িটির সিঁড়ি ভাঙেনি। বাথরুম ভেঙেছে। তবে আটক বাসিন্দাদের দ্রুত উদ্ধার করা হয়েছে। ওই বাড়ির বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থাও করা হয় পুরসভার তরফে।