এই সময়: স্বামীর বন্ধ্যত্বের জন্যই গর্ভধারণ হচ্ছিল না মহিলার। কারণ, যুবকের শুক্রাণুর ৫০% ডিএনএ (DNA) ছিল ত্রুটিযুক্ত। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে শহরেরই একটি ফার্টিলিটি ক্লিনিকের কল্যাণে ত্রুটিমুক্ত ডিএনএ-যুক্ত স্পার্মের সাহায্যে আইভিএফ (IVF) মারফত গর্ভবতী হন ওই মহিলা। এবং যথাসময়ে যমজ সন্তান প্রসব করেন তিনি। আপাতত হাসিমুখে সদ্যোজাত যমজ সন্তান কোলে উচ্ছ্বসিত ওই দম্পতি।
গুরুতর পুরুষত্ব-জনিত বন্ধ্যত্বের জটিলতা কাটিয়ে আইভিএফ প্রযুক্তির সাহায্যে এই যমজ সন্তানের জন্মকে কলকাতায় একপ্রকার নজিরবিহীন সাফল্য বলেই দাবি করছেন চিকিৎসকেরা। শুক্রাণু বা স্পার্মের প্রায় ৫০ শতাংশ ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত থাকা সত্ত্বেও উন্নত ও ‘ঠিকঠাক’ স্পার্ম নির্বাচন প্রযুক্তি ব্যবহার করেই ওই দম্পতির কোলে সন্তান তুলে দিতে সক্ষম হয়েছে শহরের নোভা আইভিএফ ফার্টিলিটি সেন্টার। তবে ওই দম্পতির ইচ্ছাকে সম্মান জানাতেই তাঁরা ওই দম্পতির নাম–পরিচয় প্রকাশ্যে আনেননি।
২৭ বছরের স্ত্রী ও ৩৪ বছরের স্বামী বিয়ের পাঁচ বছর পরেও সন্তানহীন ছিলেন। অন্তত দু’ বছর ধরে চেষ্টা করেও স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক ভাবে সন্তানধারণে ব্যর্থ হন মহিলা। একাধিক পরীক্ষায় দেখা যায়, স্ত্রীর কোনও শারীরিক সমস্যা না থাকলেও স্বামীর ক্ষেত্রে স্পার্মের ডিএনএ ফ্র্যাগমেন্টেশন ইনডেক্স (ডিএফআই) ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ, যেখানে স্বাভাবিক মাত্রা ২৫ শতাংশের নীচে থাকা জরুরি। ফলে স্বাভাবিক উপায়ে সন্তানধারণের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। চিকিৎসায় তিন মাসের মাথায় ডিএফআই কমে প্রায় ৫০ শতাংশে নামলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। এর পরে ওই দম্পতি চিকিৎসার জন্য আসেন নোভায়।
ওই বন্ধ্যত্বরোগ কেন্দ্রের ফার্টিলিটি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সুপর্ণা ভট্টাচার্য জানান, স্পার্মের সংখ্যা (কাউন্ট) বা গতি (মোটিলিটি) স্বাভাবিক থাকলেও অনেক সময় ডিএনএ–জনিত ক্ষতির কারণে বন্ধ্যত্বের সমস্যা তৈরি হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট পরীক্ষা না করলে এই সমস্যা ধরাও পড়ে না। চিকিৎসকদের মতে, এ ক্ষেত্রে প্রচলিত আইভিএফ পদ্ধতির পরিবর্তে বিশেষ ভাবে পরিকল্পিত চিকিৎসা প্রোটোকলের আশ্রয় নেওয়া হয়। রোগীকে নিয়মিত বীর্যপাতের পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত স্পার্মের পরিবর্তে নতুন স্পার্ম তৈরি হয়। আইভিএফ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হয় মাইক্রোফ্লুইডিক্স-ভিত্তিক স্পার্ম সিলেকশন প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে তুলনামূলক ভাবে সুস্থতর স্পার্ম আলাদা করে নিষেকের জন্য ব্যবহার করা হয়।
এ ভাবে দম্পতির নিজস্ব শুক্রাণু ও ডিম্বাণু ব্যবহার করেই আইভিএফ করা হয় এবং প্রথম চেষ্টাতেই গর্ভধারণ সফল হয়। পরবর্তীতে তাঁদের ঘরে জন্ম নেয় সুস্থ যমজ পুত্রসন্তান। চিকিৎসকদের মতে, বন্ধ্যত্বের প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ ক্ষেত্রেই পুরুষ-জনিত কারণ থাকে নেপথ্যে। তবু সমাজে এখনও এটিকে প্রায়ই শুধুই নারীর সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। তাই সন্তান পরিকল্পনার ক্ষেত্রে পুরুষদেরও প্রাথমিক পর্যায়েই সহজ সিমেন অ্যানালিসিস পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।