হাতে মেহেন্দি। গলায় মালা। থানায় বসে বসে কাঁদছেন কনে। তাঁর সামনে বসে পুলিশ অফিসাররা। দূরে লকআপে কাঁচুমাচু মুখে দাঁড়িয়ে শেরওয়ানি পরা যুবক। তাঁর গলাতেও বরমালা। কনে কাঁদতে কাঁদতে বলছেন, ‘বিয়েটা অন্তত হতে দিন সাহাব। আমার জীবন নষ্ট হয়ে যাবে।’ বুধবার মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) ভোপালের কোহ-এ-ফিজা থানার এই ঘটনার ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ব্যাপারটা কী?
আকাশ নীলকন্ঠের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার কথা ছিল সীমার। সবাই প্রস্তুত। অতিথিরা এসে গিয়েছেন। ছাদনাতলায় বসে আছেন বর, কনে। সানাই বাজছে। মালাবদলের ঠিক আগেই সেখানে হাজির হয় পুলিশ (Police)। গ্যাংস্টার বর (Gangster Groom) আকাশকে গ্রেপ্তার করে সোজা নিয়ে যায় থানায়। অভিযোগ, ‘ইললিগ্যাল গ্যাং’ নামে একটি দলের পাণ্ডা আকাশ। খুন, অপহরণ, জালিয়াতি-সহ একাধিক মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এ দিন ছাদনাতলায় পৌঁছেই বরের হাতে হাতকড়া পরায় পুলিশ। তার পর কনে আর অতিথিদের চোখের সামনে টানতে টানতে নিয়ে তোলে জিপে। এমন ঘটনায় হতবাক হয়ে যান সবাই। রজমজি ঠাকুর, অভিষেক উপাধ্যায়, অভিষেক মীনা, নীরজ খাঙ্গে এবং অমিত অসওয়াল নামে আকাশের চার জন বন্ধুকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ২০১৮ থেকে ভোপাল জুড়ে রমরমিয়ে কারবার চালাচ্ছে ইললিগ্যাল গ্যাং। তার প্রায় ৫০ জন সাঙ্গোপাঙ্গ রয়েছে। প্রত্যেকের ঘাড়ে রয়েছে একটা ট্যাটু। তাতে লেখা, ‘ইললিগ্যাল’। অভিযোগ, চলতি মাসের শুরুতে ২৬ বছর বয়সি এক যুবককে অপহরণ করেন আকাশ। তাঁকে একটি ফ্ল্যাটে আটকে রেখে চলে নির্যাতন। ৮ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। না দিলে ধর্ষণের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন আকাশ। তাঁর পরিবারের লোকেরাই ১১ মার্চ FIR দায়ের করে কোহ-এ-ফিজা থানায়। তার পরেই তল্লাশিতে নেমে আকাশকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ দিন আকাশকে নিয়ে যাওয়ার পরেই থানায় হাজির হন সীমা। পুলিশ অফিসারদের অনুনয় করে তিনি বলেন, ‘আকাশকে অন্তত দু’ঘণ্টার জন্য ছাড়ুন। আমার জীবন নষ্ট করবেন না।’ আকাশের গ্যাং সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না বলেও দাবি করেছেন সীমা। কিন্তু পুলিশ রাজি হয়নি। তদন্তকারীদের দাবি, সীমা সব জানতেন। প্রায় ছয় বছরের তাঁদের সম্পর্ক তাঁদের। কয়েক সপ্তাহ ধরে বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা।