• ব্যারাকপুর এবং রহড়া মিশনের জ্বালানি রসদ নিয়ে খোঁজ নিল প্রশাসন
    এই সময় | ১৪ মার্চ ২০২৬
  • অশীন বিশ্বাস, ব্যারাকপুর

    যুদ্ধের আঁচের ছোঁয়া এসে পড়েছে ব্যারাকপুর এবং রহড়া মিশনের (Barrackpore and Rahra Missions) আবাসিকদের মধ্যে। দ্রুত সমস্যা না মিটলে আগামিদিনে আবাসিকদের দু’বেলা খাবার জোগানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় মিশন কর্তৃপক্ষ। যদিও এখনও যা জ্বালানি মজুত রয়েছে তাতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে মিশন কর্তৃপক্ষের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    ব্যারাকপুর রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশনের ব্যারাকপুর, আগরপাড়া, নীলগঞ্জ–সূর্যপুর, পুরুলিয়া, জয়রামবাটিতে চারটি শাখা রয়েছে। এই চারটি শাখায় আবাসিক পড়ুয়া, অনাথ ও প্রতিবন্ধী শিশু, আশ্রমিক, সন্ন্যাসী মিলিয়ে নিত্যদিন প্রায় দু’হাজার জনের দু’বেলা খাবারের ব্যবস্থা করে থাকেন মিশন কর্তৃপক্ষ। যুদ্ধের আঁচ যাতে মিশনের হেঁসেলে এসে না পড়ে, সে জন্য গ্যাসের পাশাপাশি কাঠের উনুন এবং ডিজেল ওভেনও ব্যারাকপুর মিশন কর্তৃপক্ষ চালু করেছেন। আপাতত কয়েক দিনের কাঠ এবং ডিজেল মজুত রয়েছে। মেনুতে কোনও কাটছাঁট না করে খাবারের জোগান যাতে ঠিকঠাক থাকে সেটাই এখন প্রধান লক্ষ্য মিশন কর্তৃপক্ষের। সেইমতো পরিমাণে বেশি ভাত এবং ডাল রান্না কাঠের উনুনেই করা হচ্ছে। বাকি অন্যান্য পদের রান্না ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কখনও গ্যাসে, কখনও ডিজেলের ওভেনে করা হচ্ছে।

    শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সমাজ কল্যাণ দপ্তর থেকে ফোন করে মিশনের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি কোনওরকম সমস্যা যাতে না হয় সে জন্য আগাম সাত দিনের গ্যাস মজুত রাখতে বলা হয়েছে। ব্যারাকপুর রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশনের সাধারণ সম্পাদক স্বামী নিত্যরূপানন্দ মহারাজ বলেন, ‘আমরা আগেভাগেই ব্যবস্থা নিয়েছি। যাতে কোনও সমস্যায় পড়তে না হয়। ডিজেল, গ্যাস, কাঠ যা মজুত রয়েছে তাতে আগামী দু’সপ্তাহ কোনও অসুবিধা না হওয়ার কথা।’ মিশন কর্তৃপক্ষের তরফে ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকান দূতাবাসের কাছে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারবর্গের পাশে দাঁড়াতে মানবিক কল্যাণে ৩ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

    রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনেও আবাসিক পড়ুয়া এবং সন্ন্যাসী মিলিয়ে রোজ প্রায় ৮৫০ জনের খাবারের ব্যবস্থা থাকে। এখনই মিশন কর্তৃপক্ষ কোনও সমস্যায় না পড়লেও গ্যাসের মতো তেলের জোগানেও টান পড়লে তাঁরাও যে সমস্যার বাইরে থাকবেন এমনটা নয়। রহড়া মিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্যাসের পাশাপাশি ডিজেল ওভেন এবং কাঠ কয়লাতে রান্নার পরিকাঠামোও তাদের রয়েছে। গ্যাস সিলিন্ডারের যোগান কমে যাওয়ায় ডিজেল এবং কাঠকয়লা ইতিমধ্যেই মজুত করেছেন মিশন কর্তৃপক্ষ। রহড়া মিশন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুরলীধরানন্দ মহারাজ বলেন, ‘গ্যাস, ডিজেল এবং কাঠকয়লা যা মজুত আছে তাতে আগামী কয়েকটা দিন সমস্যা হবে না বলেই আশা করছি। আমরা পরিস্থিতির উপরে নজর রাখছি।’

  • Link to this news (এই সময়)