এই সময়, বেলঘরিয়া ও বারাসত: গৃহস্থ বাড়িতে গ্যাসের জোগান নিয়ে বারবার আশ্বাস দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু রাজ্য জুড়ে গ্যাস সিলিন্ডারের আকালের ছবিটা অন্য কথাই বলছে। এলপিজি ডিলারদের (LPG Cylinder) কার্যালয়ে ভোর থেকে থিক থিক করছে গ্রাহকদের ভিড়। বেলঘরিয়া, পানিহাটি, ব্যারাকপুর, জগদ্দল, ভাটপাড়া বা নৈহাটি, রাষ্ট্রায়ত্ত এলপিজি ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের কার্যালয়ে ছিল লম্বা লাইন। গ্রাহকদের অভিযোগ, ২০-২২ দিন আগে বুকিং থাকা সত্ত্বেও গ্যাস মিলছে না। অনেকেরই দাবি, ফোনেও গ্যাস বুকিং করা যাচ্ছে না৷ শুক্রবার বেশ কয়েকটি জায়গায় গ্যাস না পেয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রাহকরা। কোনও কোনও জায়গায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে পুলিশকে।
কামারহাটি পুরসভার (Kamarhati Municipality) ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের নীলগঞ্জ রোডে ভারত গ্যাসের কার্যালয় রয়েছে। এখান থেকে কেন্দ্রের উজালা প্রকল্পের অধীনে বহু সাধারণ মানুষ গ্যাস সিলিন্ডার পান। শুক্রবার কয়েকশো গ্রাহক খালি সিলিন্ডার নিয়ে ওই গ্যাস এজেন্সির অফিসের সামনে জড়ো হন। তাঁদের দাবি, যুদ্ধ শুরু হতেই তাঁদের বাড়িতে গ্যাস পৌঁছচ্ছে না। ২০-২২ দিন আগে বুক করেও কেউ সিলিন্ডার পাননি। এ দিন দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও কেউ গ্যাস পাননি বলে অভিযোগ। কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেন, তাঁদের বাড়িতেই সিলিন্ডার পাঠানো হবে। এ কথা শুনেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রাহকরা। এজেন্সির কর্মীদের সঙ্গে তীব্র বচসা শুরু হয় গ্রাহকদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেলঘরিয়া থানার পুলিশকে ডাকতে হয়।
এষা দত্ত নামে এক গ্রাহক বলেন, ‘বাড়িতে গ্যাস নেই। কী ভাবে রান্না-খাওয়া চলবে বুঝতে পারছি না।’ শুভঙ্কর বোস নামে আর এক গ্রাহকের বক্তব্য, ‘সকাল থেকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়়িয়ে থাকার পর জানানো হলো সিলিন্ডার পরে দেওয়া হবে। কিছুই কেউ বলতে পারছে না।’ ইন্ডেন, হিন্দুস্থান পেট্রোলিয়ামের কার্যালয়গুলিতেও একই অবস্থা। বহু জায়গায় পুলিশের পাহারা বসাতে হয়েছে গ্রাহকদের ক্ষোভ সামাল দিতে।
অন্যদিকে, গ্যাসের এই সঙ্কটকে হাতিয়ার করে কালোবাজারি ও কৃত্রিম আকাল তৈরি রুখতে তত্পর হলো উত্তর ২৪ পরগনার এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। শুক্রবার একযোগে বারাসত ও মধ্যমগ্রামের চারটি গ্যাস গোডাউনে অভিযান চলে। গোডাউনে গ্যাস সিলিন্ডারের মজুত ভাণ্ডার, স্টক, রেজিস্টার খাতা ও কম্পিউটারের রেকর্ড এবং গোডাউনের অবস্থা খতিয়ে দেখেন ডিইবি–র কর্তারা। গ্যাসের সুষ্ঠু সরবরাহ থেকে বুকিং সার্ভার সমস্যার দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরদের।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সিলিন্ডার সরবরাহে নিয়ন্ত্রণ করেছে তেল সংস্থাগুলি। তার আঁচ এসে পড়েছে গৃহস্থের হেঁসেল থেকে মা ক্যান্টিন, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও স্কুলের মিড–ডে মিলের রান্না এবং মন্দিরের ভোগ রান্নার ক্ষেত্রেও। এই পরিস্থিতিতে অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে গ্যাসের সিলিন্ডার কালোবাজারি করতে না পারে তার জন্য সক্রিয় ডিইবি। এ দিন বারাসতের বাদু, কাজিপাড়া, হাটখোলা ও মধ্যমগ্রামের রোহোন্ডা পঞ্চায়েত এলাকার গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউটরের অফিস ও গোডাউনে অভিযান চালান ডিস্ট্রিক্ট এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা। ডিইবি–র এক কর্তা বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে গ্যাসের কালোবাজারি যাতে কেউ করতে না পারে, সুষ্ঠু ভাবে যাতে গ্রাহকরা গ্যাসের সিলিন্ডার পান, সেই কারণেই আমরা গ্যাসের গোডাউনগুলি ভিজিট করেছি। অনলাইন বুকিং করার ক্ষেত্রে গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউটরদের সার্ভারের সমস্যা হচ্ছে। ফলে নাজেহাল হতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এই সমস্যা দ্রুত সমাধান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’