• নাবালিকাকে ধর্ষণ–খুনে নতুন করে তদন্তে ‘সিট’ গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের
    এই সময় | ১৪ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ায় (Hariharpara of Murshidabad) এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে নৃশংস ভাবে খুনের ঘটনায় প্রায় দু’বছর বাদে নতুন করে তদন্তে ‘সিট’ (বিশেষ তদন্তদল) (SIT) গঠনের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (HIGH COURT)। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর নির্দেশ, আইপিএস অফিসার প্রণব কুমারের নেতৃত্বে তাঁর বাছাই করা পাঁচ জন অফিসার নতুন করে এই তদন্ত করবেন। সেই রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে।

    হরিহরপাড়ায় বছর চোদ্দোর এক নাবালিকা নিখোঁজ হয়। থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। পরের দিন বাড়ি থেকে একটু দূরে সেই কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়। দেখা যায়, মৃতের চোখ উপরে নেওয়া হয়েছে, দেহের নানা জায়গায় গভীর ক্ষত, যৌনাঙ্গে রড জাতীয় কিছু ঢুকিয়ে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ ছিল শাসকদলের স্থানীয় নেতার আত্মীয়ের বিরুদ্ধে। প্রথম ময়নাতদন্তে দেহে এত নৃশংস আঘাতের চিহ্নের উল্লেখই করা হয়নি! পরিবারের আইনজীবী তরুণজ্যোতি তেওয়ারির বক্তব্য, পরে হাইকোর্টের নির্দেশে দেহের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত হলে রিপোর্টে এই সব ত্রুটি সামনে আসে। তার পরেও পুলিশ পকসো–র ধারা যুক্ত করেনি।

    পুলিশ যে চার্জশিট দেয় তাতেও বিস্তর ত্রুটি দেখে নিহতের পরিবার সিবিআই বা সিআইডি তদন্ত চেয়ে বহরমপুর বিশেষ আদালতে আবেদন করে। কিন্তু ওই আদালত নতুন করে তদন্তের দাবি খারিজ করে দেয়। এ বার হাইকোর্টে আবেদন করে ওই পরিবার। দীর্ঘ শুনানির পরে বিচারপতি সেনগুপ্তর আদালত সিট গঠন করে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিল।

    এই নির্দেশ দিতে গিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ, তদন্তে মনোযোগ না দিয়ে এগোনো আসলে বিচারের মূল ভিত্তিকে প্রভাবিত করে এবং সুবিচার দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে ওঠে। যার ফলে গোটা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়। বিচারপতির মন্তব্য, কোনও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ–যুক্ত মামলায় তদন্তকারীদের প্রতিটি সম্ভাব্য সূত্র খতিয়ে দেখা বিশেষ জরুরি। যাতে বিচারব্যবস্থার উপরে জনসাধারণের আস্থা বজায় থাকে। এই সূত্রেই আদালত মনে করিয়েছে, ন্যায়বিচার হওয়াই যথেষ্ট নয়, তা যে হয়েছে তা দৃশ্যমান হওয়াও প্রয়োজন।

  • Link to this news (এই সময়)