সাত বছর আগেই সমুদ্রে যাওয়া ছেড়ে নিয়েছিলেন ডেস্ক জব। তবু কোম্পানির চুক্তির প্যাঁচে পড়ে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হন ৫৪ বছরের মেরিন ইঞ্জিনিয়ার দেওনন্দন প্রসাদ সিং (Deonandan Prasad Singh)। কর্মী-সঙ্কটের কারণে আবারও তাঁকে জাহাজে ফেরত পাঠায় সংস্থা। সেই জাহাজেই ইরানের মিসাইল হানায় নিহত দেওনন্দন। কাজে যোগ দেওয়ার দুই সপ্তাহ পরে, গত বুধবার ইরাকের বসরার কাছে খোর আল জুবায়ের বন্দরের কাছে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী তেলের ট্যাঙ্কারে ইরানের হামলায় মৃত্যু হয় তাঁর।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা যৌথ ভাবে ইরানের উপর হামলা চালানোর পরে তুঙ্গে ওঠে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত। যুদ্ধ শুরু হতেই হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান। সেই প্রণালীতে ইরানের আশপাশে থাকা বেশ কিছু আমেরিকান ভেসেলকে টার্গেট করে তেহরান। গত বুধবার আমেরিকান কোম্পানির মালিকানাধীন তেলবাহী জাহাজ Safesea Vishnu ইরাকের দক্ষিণে বসরার কাছে সমুদ্রে নোঙর করে ছিল এবং সেখানে জ্বালানি তোলা হচ্ছিল। সেই সময় বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন বা নৌকা দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজে আগুন ধরে যায়।
হামলার সময়ে জাহাজে মোট ২৮ জন কর্মী ছিলেন। আগুন ও বিস্ফোরণের মধ্যে পড়ে সবাই সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে বাধ্য হয়। ওই জাহাজেই ছিলেন ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার দেওনন্দন প্রসাদ সিং। জাহাজে আগুন লাগায় তিনিও সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছিলেন কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পরে ইরাকের কোস্টগার্ড ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ২৭ জনকে উদ্ধার করে। কিন্তু মৃত্যু হয় ওই মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের।
মুম্বইয়ের কান্দিভলি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন দেওনন্দন প্রসাদ সিং। সমুদ্রযাত্রায় তাঁর প্রায় ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা ছিল বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, যুদ্ধের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও দেওনন্দনকে শেষ মুহূর্তে ওই জাহাজে কাজে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।
ইরাকে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, হামলার পরে জাহাজে থাকা অন্যান্য ভারতীয় নাবিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। নিহত নাবিকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে দূতাবাস।
সব মিলিয়ে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যে এবং সেখানে কর্মরত নাবিকদের জীবনে। মুম্বইয়ের এই নাবিকের মৃত্যু সেই ঝুঁকিরই এক মর্মান্তিক উদাহরণ। দেওনন্দন প্রসাদ সিং একা নন, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে আরও দুই ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন এখনও নিখোঁজ বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।