• বেলুড় মঠের সন্ন্যাসীরাও ‘বিচারাধীন’ তালিকায়? বিতর্ক
    এই সময় | ১৪ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, বেলুড়: মঙ্গলবার বেলুড় মঠ (Belur Math) পরিদর্শনে এসে বাংলায় ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট করানোর অঙ্গীকার করেছিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar)। তার ঠিক দু’–দিনের মাথায় জানা গেল, খোদ বেলুড় মঠের বহু সন্ন্যাসীরই এখনও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম ওঠেনি (Final voter list)। অনেকেরই নাম রয়েছে ‘বিচারাধীন’ তালিকায়। সেই খবর জানাজানি হতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলুড় মঠের মোট ৯১ জন সন্ন্যাসী মহারাজের নাম রয়েছে সার–এর বিচারাধীন তালিকায়। রামকৃষ্ণ মিশনের সর্বত্যাগী সন্ন্যাসীরাও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাওয়ায় রীতিমতো শোরগোল শুরু হয়েছে। গত জানুয়ারিতে বেলুড় মঠের বহু সন্ন্যাসীকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। শুনানিতে হাজির হয়ে মহারাজরা সমস্ত নথিপত্র জমা দেন। কিন্তু চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতেই দেখা যায়, সেখানে বেলুড় মঠের মহারাজদের অনেকেরই নামের পাশে ‘অ্যাডজুডিকেটেড’ তকমা পড়েছে।

    বালি বিধানসভা কেন্দ্রের ৮৫ ও ৮৭ নম্বর অংশে রয়েছে বেলুড়মঠের আবাসিক সন্ন্যাসীদের নাম। সাধারণত, এই দুই অংশের ভোটগ্রহণ হয় বেলুড় মঠের জনশিক্ষা মন্দিরে। তবে এতদিন সন্ন্যাসীদের কাউকে কখনও ভোটের লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। রামকৃষ্ণ মিশনের আদর্শ মেনে সন্ন্যাসীরা কোনও রাজনৈতিক মতের পক্ষ নেন না। তাঁরা ভোটদানেও বিরত থাকেন। কিন্তু ভোটাধিকার একটি সাংবিধানিক অধিকার ও ভোটাধিকারের সঙ্গে নাগরিকত্বের পরিচয়ও জড়িয়ে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসাবে ভোটার পরিচয়পত্রের প্রয়োজন রয়েছে। এ সব কারণেই বেলুড় মঠের মহারাজদের প্রায় সকলেরই ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য এনিউমারেশন ফর্ম জমা করেছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকেরই ভোটার কার্ড রয়েছে। তা সত্ত্বেও কেন এত সংখ্যক মহারাজের নাম বাদ পড়ল, তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

    হাওড়া সদর যুব তৃণমূল সভাপতি কৈলাশ মিশ্র বলেন, ‘বিজেপির নির্দেশেই নির্বাচন কমিশন পূজনীয় মহারাজদের নাম বিচারাধীন তালিকায় তুলে দিয়েছে। আমাদের তো মনে হচ্ছে, সন্ন্যাসীদের নাম ওরা বাদ দিয়েও দিতে পারে। এ জন্য জ্ঞানেশকুমারের ক্ষমা চাওয়া উচিত।’ যদিও হাওড়া সদরের বিজেপি সভাপতি গৌরাঙ্গ ভট্টাচার্য বলেন, ‘তৃণমূলের নির্দেশ মতো বিএলও–রা ইচ্ছাকৃতভাবে বেছে বেছে হিন্দুদের নাম বাদ দিচ্ছে। এর পিছনে তৃণমূলের হাত রয়েছে।’

  • Link to this news (এই সময়)