• মাত্র ১ ঘণ্টার বৃষ্টিতেই অথৈ জলে শিলিগুড়ি, কাঠগড়ায় পুরসভা
    এই সময় | ১৪ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, শিলিগুড়ি: বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে ৯টা। মাত্র এক ঘণ্টার মুষলধারায় বৃষ্টিতে জলমগ্ন শিলিগুড়ি (Siliguri Water Lodged)। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের রিপোর্ট (IMD) , বৃষ্টির পরিমাণ ৬৬ মিলিমিটার। জল জমা নিয়ে শহরে এখন দোষারোপের পুরসভার পালা শুরু হয়েছে। মেয়র গৌতম দেব এই পরিস্থিতির জন্য ঠিকাদারদের একাংশকে দায়ী করেছেন। বিরোধী দলের অভিযোগের আঙুল অবশ্য পুরসভার দিকেই। বৃষ্টির জেরে শহরের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে জলমগ্ন রাস্তায় দুর্ঘটনায় পড়ে একটি টোটো। এক শিশু জখম হয়। ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময়ে একটি গাড়ি সোজা গিয়ে পড়ে নালায়।

    ২ নম্বর ওয়ার্ডে জলের তোড়ে একটি বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ে। গোটা হাকিমপাড়া প্রায় একহাটু জলের তলায় চলে যায়। পাঞ্জাবিপাড়া, আশ্রমপাড়া, বিধান মার্কেট, সেবক রোড, খালপাড়ায় জল জমে যায়। জমা জলে গাড়ি, স্কুটার চালাতে গিয়ে যানজটে নাকাল হন মানুষ। বৃষ্টি থামার ঘণ্টা খানেক পরে জল নামলেও শুক্রবারও শহরের নিচু এলাকাগুলি জলমগ্ন। শহরের বাইরে সাহুডাঙি এলাকায় রামকৃষ্ণ আশ্রম লাগোয়া রেলের আন্ডারপাস এ দিনও জলের তলায় ছিল। কয়েক বছর ধরেই শিলিগুড়িতে খুব অল্প সময়ের মধ্যে অতি বৃষ্টি হচ্ছে। সেই কারণে এ বার বর্ষার আগেই পুরসভার তরফে শহরের সমস্ত নিকাশিনালা সাফ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। বৃহস্পতিবার রাতে বাস্তব চিত্র দেখে ক্ষোভে ফুঁসছেন শহরবাসী। মেয়র অবশ্য দাবি করেন, 'আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান, পথশ্রী, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর এবং এসজেডিএ-র একাধিক প্রকল্পে রাস্তা, নিকাশিনালা, কালভার্ট মেরামতি হচ্ছে। সেই কারণে নালা অবরুদ্ধ। জল জমে যাওয়ার কারণও তাই। তাঁর কথায়, 'রাতে বৃষ্টি থামার পরে আমরা গোটা শহরের চিত্র সম্পর্কে খোঁজ নিই। আমি ঠিকাদারদের সাফ বলেছি, সময়মতো কাজ শেষ করা না-হলে বরদাস্ত করব না।'

    শহরের কনজারভেন্সি বিভাগের মেয়র পারিষদ মানিক দে বলেন, 'কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কালভার্ট তৈরি হচ্ছে। কালভার্টের তলার কাঠ এখনও সরানো হয়নি। জল জমার সেটাই কারণ।' যদিও বিরোধীদের দাবি, প্রাক বর্ষায় নালা সাফই করা হয়নি। কারণ, পুরসভার কাছে শহরের নিকাশিনালার মানচিত্রই নেই। পুরসভার বিরোধী দলনেতা বিজেপিন অমিত জৈন বলেন, 'বড় বড় নালা পরিষ্কারের জন্য ২৫০ কর্মী রয়েছেন বলে পুরসভা জানিয়েছিল। সেই কর্মীদের আজ পর্যন্ত হদিশ পেলাম না।' ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলান বিজেপির অনিতা মাহাত বলেন 'আমার ওয়ার্ডে গিয়ে তৃণমূলের এক নেতা প্রচার করেন, জমা জলের জন কাউন্সিলার দায়ী। তা হলে ৪০, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে দুর্ঘটনার জন্য দায় কার শাসকদল স্রেফ রাজনীতি করছে। শহরবাসী অবশ্য জমা জল নিয়ে এই দায় এড়ানোর 'খেলায়' ক্ষুব্ধ। ইস্টান বাইপাস এলাকার বাসিন্দা রতন সাহ বৃষ্টি থামার পরে বাড়ি ফিরতে গিয়ে সাইকেল নিয়ে নালায় পড়ে যান তাঁর প্রশ্ন, 'প্রাক বর্ষার বৃষ্টিতেই যদি এই অবস্থা হয়, তা হলে ভারী বৃষ্টিতে শিলিগুড়ির কী হাল হবে?'

  • Link to this news (এই সময়)