• পাহাড়ে মাথাচাড়া দিচ্ছে তৃতীয় শক্তি? বিমল-অজয় গোপন বৈঠকে জল্পনা দার্জিলিঙে
    আজ তক | ১৪ মার্চ ২০২৬
  • উত্তরবঙ্গের তিন পাহাড় দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্সিয়াংয়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কি বদলাতে শুরু করেছে? সম্প্রতি গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রধান বিমল গুরুং এবং হামরো পার্টির অজয় এডওয়ার্ডের এক ‘গোপন’ বৈঠককে কেন্দ্র করে পাহাড়ে এখন প্রবল জল্পনা। সূত্রের খবর, একদিকে অনীত থাপার প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা এবং অন্যদিকে বিজেপি। এই দুই শক্তির থেকে সমদূরত্ব বজায় রেখে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ গড়ে তোলা যায় কি না, তা নিয়েই দুই নেতার মধ্যে প্রাথমিক সলাপরামর্শ হয়েছে। যদিও এই নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা হয়নি, কিন্তু এই খবরের রেশ পৌঁছতেই দিল্লির দরবারে নড়েচড়ে বসেছে বিজেপি নেতৃত্ব।

    দীর্ঘ সময় ধরে বিজেপির হাত ধরে থাকলেও বিমল গুরুংয়ের মোর্চা এখন কিছুটা তিতিবিরক্ত। ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত নানা নির্বাচনে বিজেপিকে সমর্থন করলেও পাহাড়ের মূল সমস্যা সমাধানে গেরুয়া শিবিরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ বিমলই। পৃথক রাজ্যের আশ্বাস মিললেও কাজের কাজ কিছু হয়নি বলেই মোর্চা শিবিরের অভিযোগ। পাশাপাশি, বারবার অন্য দলের প্রতীকে ভোট দেওয়ার ফলে নির্বাচন কমিশন দলের স্বীকৃতি বাতিল করতে পারে। জিএনএলএফ-এর উদাহরণ সামনে আসায় সেই আশঙ্কাও এখন বিমল-রোশনদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

    রোশন গিরির দিল্লি সফর ঘিরে জল্পনা
    এরই মধ্যে মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরির আচমকা দিল্লি যাত্রা নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। যদিও রোশনবাবু নিজে দিল্লি যাওয়ার কথা স্বীকার করেননি এবং জোট নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন, তবুও পাহাড়ের রাজনৈতিক মহল মনে করছে তলে তলে অন্য কোনো ঘুঁটি সাজানো হচ্ছে। বিমল গুরুং চাইছেন বিজেপি এবার আঞ্চলিক দলগুলোকেই সমর্থন করুক, নচেৎ নিজেরা প্রার্থী দিয়ে শক্তির পরীক্ষা করতে তাঁরা পিছপা হবেন না।

    অজয়-বিমল অক্ষ বনাম বিজেপি
    অজয় এডওয়ার্ড এবং বিমল গুরুংয়ের এই রসায়ন বিজেপির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। পাহাড়ের তিন আসনের মধ্যে দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে যদি অজয় ও বিমলকে জায়গা ছেড়ে দিতে হয়, তবে বিজেপির হাতে থাকবে কেবল কার্সিয়াং। গেরুয়া শিবিরের অন্দরের খবর, তাঁরা কালিম্পং ও দার্জিলিংয়ে আঞ্চলিক দলগুলোকে সমর্থন করে কার্সিয়াং থেকে নিজেদের প্রতীকে প্রার্থী দেওয়ার কথা ভাবছেন। বিজেপির পার্বত্য শাখার সভাপতি সঞ্জীব লামার গলায় ধন্দ বজায় রেখে কেবল ‘আলোচনা চলছে’ এমন বার্তাই পাওয়া গিয়েছে।

    পাহাড়ের ময়দানে নয়া সমীকরণ
    এখন বড় প্রশ্ন হলো, পাহাড় কি আগামী বিধানসভা নির্বাচনে অনীত থাপা ও বিজেপির লড়াইয়ের বাইরে এক নতুন ‘তৃতীয় বিকল্প’কে বেছে নেবে? শেষ লোকসভাতেও বিমলের সহায়তায় দ্বিতীয়বার সংসদে গিয়েছেন বিজেপির রাজু বিস্তা। কিন্তু এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাঁর কপালেও চিন্তার ভাঁজ পড়তে বাধ্য। বিমল ও অজয়ের হাত মেলানো যদি বাস্তবে রূপ পায়, তবে তা যে পাহাড়ের ক্ষমতা দখলের লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য। আপাতত দিল্লির সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে পাহাড়ের সব কটি রাজনৈতিক দল।

     
  • Link to this news (আজ তক)