• মা-কে ‘চমক’ দিতে যমজ বোনকে ৮৪ বার ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন, গ্রেপ্তার অভিযুক্ত যুবক
    এই সময় | ১৪ মার্চ ২০২৬
  • মাকে ‘সারপ্রাইজ’ দিতে চেয়েছিলেন ছেলে। ঘরে গেলেই সেই ‘চমক’ দেখতে পাওয়া যাবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন মা-কে। সেই ‘চমক’ যে এমন নৃশংস হবে তা ভাবতেই পারেননি মা নীলিমা। তবে ঘরে গিয়ে সত্যিই ভয়ে চমকে উঠেছিলেন তিনি। ঘরে গিয়ে তিনি দেখতে পান রক্তের উপর শুয়ে আছেন ক্ষতবিক্ষত মেয়ে হিমাশিখা (Himashikha)।

    অভিযোগ, মা-কে ‘চমক’ দিতে যমজ বোনকে ৮৪ বার ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছেন হার্দিক। নীলিমা আতঙ্কে চিৎকার করলে তাঁকেও আক্রমণ করেন হার্দিক বলে অভিজগ উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মোরাদাবাদের ঘটনা।

    অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা জানিয়েছে, হিমাশিখার দেহের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে ওই তরুণীর দেহে ৮৪টি আঘাতের চিহ্ন মিলেছে।

    পুলিশ সূত্রে খবর, হিমাশিখা এবং হার্দিক জমজ ভাইবোন। তাঁদের মধ্যে কেরিয়ার এবং সম্পর্ক নিয়ে মতবিরোধের জেরে এই খুনের (murder) ঘটনা ঘটে।

    জানা গিয়েছে, বছর ২৫-এর হিমাশিখা এবং হার্দিক দু’জনেই ইঞ্জিনিয়ার (engineer)। কাজের সূত্রে তাঁরা ছিলেন গুরুগ্রামে (Gurugram)। কাজের পাশাপাশি MBA-ও পড়ছিলেন হিমাশিখা। তবে বেশ কিছু দিন আগে কাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন হার্দিক। সোশ্যাল মিডিয়ায় (social media) তিনি সময় বেশি দিতেন বলেও সূত্রের খবর। হোলির আগে মোরাদবাদে (Moradabad) নিজেদের বাড়িতে এসেছিলেন তাঁরা।

    সম্প্রতি হার্দিকের আচরণে পরিবর্তন দেখতে পান পরিবারের লোকজন। গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইল ফোন নিয়ে থাকতেন এবং অনলাইনে চ্যাট করতেন তিনি। এই কথা জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের লোকজন।

    কী কারণে তিনি তাঁর জমজ বোনকে খুন করেন তাও জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পুণের এক মুসলিম তরুণীর সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় হার্দিকের। ওই তরুণীকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে নীলিমা এবং হিমাশিখা তাঁকে নিজের কেরিয়ারের দিকে নজর দেওয়ার জন্য বলেছিলেন। গত ৬ মার্চও ভাই-বোনের মধ্যে বচসা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, ওই বচসার সময়েই রান্নাঘর থেকে ধারালো ছুরি নিয়ে এসে হিমাশিখাকে কোপান হার্দিক। এর পরেই হার্দিক চলে যান মায়ের কাছে। তাঁর মা মোরাদাবাদের একটি ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে ( insurance company) কাজ করেন। বাড়িতে চমক অপেক্ষা করছে আছে বলে তাঁকে ডেকে নিয়ে যান হার্দিক।

    পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, জেরায় নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন হার্দিক। কেরিয়ার নিয়ে লাগাতার পরামর্শ দেওয়ার কারণে বিরক্ত ছিলেন তিনি। এই কারণেই রাগের বশে বোনকে খুন করেন বলেও জেরায় জানিয়েছেন ওই যুবক। তাঁকে জেল হেফাজতের (judicial custody) নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

  • Link to this news (এই সময়)