এই সময়: বারবার চেষ্টা করেও ফোনে সহজে গ্যাস সিলিন্ডার (Gas Cylinder) বুক করা যাচ্ছে না। গ্যাস বুকিং করলেও কবে সিলিন্ডার মিলবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। এই অবস্থায় গ্যাসের বিকল্প হিসেবে গ্রামের দিকে অনেকেই বাড়িতে উনুন ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছেন। কিন্তু তাতেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে! তার কারণ, উনুন ধরানোর জন্য জ্বালানি (Fuel) হিসাবে যে সব জিনিস ব্যবহার করা হতো, তার জোগানও এখন অপ্রতুল। একটা সময় পর্যন্ত গ্রামের মানুষরা জ্বালানি কাঠ, খড়, কয়লা কিংবা গুলের আঁচে রান্না করতেন। রান্নার গ্যাস এসে যাওয়ায় এই ধরনের জ্বালানির ব্যবহার কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ক্রেতা না মেলায় উঠে গিয়েছে কয়লা ও গুলের দোকান। সরকারি বিধিনিষেধের গেরোয় আগের মতো আর গাছ কাটা যাচ্ছে না। ফলে গ্রামের দিকেও জ্বালানি কাঠের জোগান তলানিতে এসে ঠেকেছে। তার থেকেও বড় কথা, বহু বাড়িতেই আর উনুন নেই। ফলে রান্নার গ্যাসের বিকল্প ব্যবস্থা করতে গিয়ে মাথা খুঁড়তে হচ্ছে গ্রামের মানুষকেও।
হাওড়া গ্রামীণ জেলার বাইনান বাজারে কাঠ ও কয়লার বড় দোকান ছিল উত্তম রায়ের। তিনি জানিয়েছেন, যখন এলপিজি গ্যাসের এত রমরমা ছিল না, তখন চুটিয়ে ব্যবসা করেছেন। কয়লার পাশাপাশি গুলও বিক্রি করতেন। সাধারণ গৃহস্থরা ছাড়াও স্থানীয় চায়ের দোকানদার, হোটেল মালিকরা তাঁর কাছ থেকে জ্বালানি কাঠ, কয়লা এবং গুল কিনে নিয়ে যেতেন। কিন্তু রান্নার গ্যাস এসে যাওয়ার পরে আর আগের মতো কয়লা, গুল অথবা জ্বালানি কাঠ বিক্রি হয় না। উত্তমের কথায়, 'গুলের ব্যবসা পুরোপুরি তুলে দিতে বাধ্য হয়েছি। কয়লা ও কাঠের ব্যবসা টিমটিম করে চলছে। কারণ, ক্রেতা নেই। গ্যাসের সঙ্কট চললেও জ্বালানি কাঠ ও কয়লা তেমন বিক্রি হচ্ছে না।' উত্তমের ব্যাখা, অনেকের বাড়িতেই উনুন নেই। তাই জ্বালানি কাঠ ও কয়লার চাহিদাও বাড়েনি।' তবে তাঁর অনুমান, গ্যাসের সঙ্কট আরও কিছুদিন চললে হয়তো জ্বালানি কাঠের চাহিদা কিছুটা বাড়তে পারে। শ্যামপুর ২ নম্বর ব্লকের ডিহিমন্ডলঘাটের প্রবীণ বাসিন্দা শেখ মেহেবুব আলম জানান, তাঁর পরিবারে মোট ১৫ জন সদস্য। তাঁদের জন্য দু'বেলায় রান্না করতে হয়। মূলত কাঠের উনুনেই রান্না হয়। তার জন্য বছরে ৪০-৫০ মন কাঠ লাগে।
মেহেবুব বলেন, 'আগে আমাদের এলাকায় কাঠ, কয়লা ও গুলের অনেকগুলো দোকান ছিল। রান্নার গ্যাস আসার পর থেকে সেই সব দোকান উঠে গিয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই কাঠে রান্না করি।' কিন্তু এত কাঠ জোগাড় হয় কী ভাবে? তিনি জানিয়েছেন, এলাকায় কোথায় কখন গাছপালা কাটা হচ্ছে, তার খোঁজখবর রাখতে হয়। সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করেন তিনি। আরামবাগ থেকে 'এই সময়'-এর প্রতিনিধি জানাচ্ছেন, গ্যাসের সঙ্কট শুরু হতে না হতেই হুগলির আরামবাগ মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি কাঠের দাম বেড়ে গিয়েছে। আগে আরামবাগ এলাকায় কিলো প্রতি ৫ টাকায় জ্বালানি কাঠ বিক্রি হতো। এখন প্রতি কিলোয় ২ টাকা করে বাড়তি নিচ্ছেন দোকানদাররা। কালীপুরের কাঠের ব্যবসায়ী জাব্বার খান বলেন, 'গ্যাসের অভাব দেখা দিতেই জ্বালানি কাঠের বিক্রি এক লাফে অনেকটাই বেড়েছে। ভবিষ্যতে হয়তো কাঠের চাহিদা আরও বাড়বে। আমাদের পক্ষে সেই চাহিদা মেটানো মুশকিল। কারণ, আগের মতো আর জ্বালানি কাঠ সহজে পাওয়া যায় না। বাড়িঘর হয়ে যাওয়ায় গ্রামগঞ্জেও এখন গাছপালা খুব কমে গিয়েছে।'