• LPG সংকটে টান পড়বে বিরিয়ানির হাঁড়িতেও? আশার কথা শোনালেন ‘দাদা বৌদি’, ‘ডি বাপি’ রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ
    এই সময় | ১৪ মার্চ ২০২৬
  • সৌমেন রায়চৌধুরী

    বিরিয়ানিপ্রেমীদের অনেকেরই পছন্দের তালিকায় ব্যারাকপুরের দুই প্রতিষ্ঠান। স্বাদ-গন্ধে ভরপুর বিরিয়ানি খানার টানে প্রচুর মানুষের লাইন লেগে যায় এই দুই প্রতিষ্ঠানের আউটলেটের সামনে। তবে গত কয়েকদিনে LPG সঙ্কটে একাধিক রেস্তোরাঁ ধুঁকছে। কেমন চলছেদাদা-বৌদি ও ডি বাপি বিরিয়ানির ব্যবসা?

    একসময় কাঠের জ্বালে বিরিয়ানি তৈরি হতো। তবে বেশ কয়েকবছর আগেই সে পাট চুকে গিয়েছে। বর্তমানে গ্যাস ও কাঠ কয়লার জ্বালে চাপানো হয় বিরিয়ানির হাঁড়ি। এই সপ্তাহ থেকেই সেই প্রথায় ছেদ পড়ল। ফিরে যাওয়া হয়েছে সেই পুরোনো রীতিতে। কাঠের জ্বালানিতেই রান্না হচ্ছে বিরিয়ানি।

    প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার সঞ্জীব সাহা জানান, তাঁদের তিনটি কাউন্টার মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০টি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়। সেই হিসেবে মাসে প্রায় ৯০০টি সিলিন্ডার লাগে। কিন্তু সাম্প্রতিক গ্যাস সরবরাহের সমস্যার কারণে ডিলারদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। মজুত গ্যাসও প্রায় শেষের পথে।

    মূলত জ্বালানির জন্য নিম-সহ নানা শক্ত কাঠ ক্রয় করা হয়। বিভিন্ন ডিলারের মারফত কেনা হয় কাঠ। সকলেই বর্তমানে দাম বৃদ্ধি করেছে। ইতিমধ্যেই প্রায় অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে বিপুল অঙ্কের কাঠ সংগ্রহ করা হয়েছে বিরিয়ানি রান্নার জন্য। তবে গত কয়েকদিনে ক্রেতাদের সংখ্যাও অনেক কমেছে বলে জানালেন দোকান মালিক।

    বিরিয়ানির জন্য বিখ্যাত হলেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখানে এখন বিভিন্ন ভারতীয় ও চাইনিজ খাবারও পাওয়া যায়। বর্তমানে ব্যারাকপুরে দু’টি এবং সোদপুরে একটি আউটলেট মিলিয়ে মোট তিনটি শাখা চালু রয়েছে। তিনটি আউটলেটে মিলিয়ে প্রায় ৬০০ জন কর্মী কাজ করেন। ফলে গ্যাস সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু ব্যবসাই নয়, বহু কর্মীর জীবিকাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ।

    ডি বাপি বিরিয়ানির হেঁশেল গোড়া থেকেই কাঠের জ্বালে বিরিয়ানি রান্না হয়। সেই কারণে গ্যাসের সঙ্কট বড় একটা প্রভাব পড়েনি এই দোকানে। রেস্তোরাঁ কর্তপক্ষ জানান, আগাগোড়াই কাঠের জ্বালে বিরিয়ানি তৈরি হত, ফলে বিরিয়ানি রান্নার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হচ্ছে না। তবে অন্যান্য মেনুতে কাটছাঁট করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আগেই প্রচুর কাঠ মজুদ করে রাখার ফলে বর্তমানে কাঠের দাম বৃদ্ধি পেলেও অসুবিধা হবে না বলেই জানানো হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)