একদিকে দুর্নীতির বিরোধিতা, অন্যদিকে উন্নয়ন-সুশাসনের বার্তা। বিধানসভা ভোটের আবহে শনিবার ব্রিগেডের সভা থেকে দুই অস্ত্রে তৃণমূলকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী। তার সঙ্গেই মোদীর ভাষণ ছুঁয়ে গেল অনুপ্রবেশের মতো বিষয়ও।
এ দিন ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে চোখা চোখা ভাষণে দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার সঙ্গেই এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির জয়ের ব্যাপারে প্রবল আশা শোনা গেল নরেন্দ্র মোদীর গলায়। ১৪ মার্চ শনিবার, কলকাতায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ২টি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। একটি প্রশাসনিক সভা, অন্যটি রাজনৈতিক। প্রশাসনিক সভা থেকে ১৮,৭০০ কোটি টাকার নানা প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন মোদী। আর রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে ডাক দিয়েছেন বাংলার মসনদ পরিবর্তনের।
এ দিন বাংলায় বক্তব্য শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার পরে রাজ্যে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। বাংলার প্রশাসনকে ‘মহা জঙ্গলরাজ’ বলেও আক্রমণ করেছেন তিনি। এমনকী, পট পরিবর্তন করা হলে এতদিন বাংলায় যা করা হয়েছে তার হিসাব নেওয়ার বার্তাও শোনা গিয়েছে মোদীর মুখে।
রাজ্যে জমি শক্ত করতে বারবার বাংলার মনীষীদের প্রসঙ্গ টেনে আনতে দেখা গিয়েছে বিজেপি নেতাদের। এ দিন প্রধানমন্ত্রী মোদীর মুখেও একই বিষয় শোনা গিয়েছে। শ্রীরামকৃষ্ণ, স্বামী বিবেকানন্দ, রানি রাসমণি থেকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় থেকে ক্ষুদিরাম বসু- ঘুরে ফিরে একাধিক মনীষীর নাম উল্লেখ করে বাংলার ‘হৃতগৌরব’ ফিরিয়ে আনার গ্যারান্টি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
এ দিন ফের বাংলার বাসিন্দাদের কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা না পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলেছেন তিনি। গোটা বিষয়টির জন্য ফের আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল সরকারকে। সূর্যঘর প্রকল্পে সৌর বিদ্যুৎ, বিশ্বকর্মা প্রকল্পের মতো সুবিধা থেকে বাংলার নাগরিকেরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি তাঁর। চা শ্রমিকরাও কেন্দ্রের প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না, আবাস যোজনা, আয়ুষ্মান প্রকল্পের থেকে বাংলার বাসিন্দারা সুযোগ পাচ্ছেন না বলেও আক্রমণ শানিয়েছেন মোদী। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে চাষি আত্মহত্যা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীদের উপর অত্যাচারের প্রসঙ্গও।
ভোটের ময়দানে অনুপ্রবেশের ইস্যু বরাবরই হাতিয়ার করেছে বিজেপি। এ দিনও মোদীর মুখে শোনা গিয়েছে অনুপ্রবেশের অভিযোগ। SIR ও CAA নিয়ে তৃণমূলের বিরোধিতার পিছনে অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর তাগিদ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। রাজ্যের নারী সুরক্ষা নিয়েও তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিনি। আরজি কর, সন্দেশখালি থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীদের উপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলকে কড়া আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।