'নির্মম সরকার থেকে বাঙালি হিন্দু', ১০ পয়েন্টে মোদীর ভাষণ বুঝুন
আজ তক | ১৫ মার্চ ২০২৬
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। যেকোনও দিন হতে পারে ভোট ঘোষণা। আর এই আবহেই ব্রিগেডে জনসভা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে ব্রিগেডে এসেছিলেন মোদী। ঠিক ৫ বছর পর ফের সেই ব্রিগেডেই জনজোয়ার দেখে মুগ্ধ হলেন। এদিন রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে বাংলা দিয়েই বক্তৃতা শুরু করেন মোদী। তাঁর বক্তব্যের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তৃণমূলকেই নিশানা করেন নরেন্দ্র মোদী। যদিও নিজের ভাষণে একবারও তৃণমূলনেত্রীর নাম নেননি। মোদী বলেন, ‘বাংলা থেকে নির্মম সরকারের বিদায় হবে। বাংলা থেকে মহাজঙ্গলরাজ শেষ হবে।' বঙ্গ ভোটে বিজেপি কীভাবে লড়বে তারও রূপরেখা তৈরি করে দিয়ে গেলেন। এদিন মোদীর ভাষণে যে ১০ পয়েন্ট উঠে এল চলুন দেখে নেওয়া যাক-
১. কেন্দ্রের প্রকল্প আটকে রাখার অভিযোগ
মোদী বলেন, বাংলায় এখন আমাদের সরকার নেই। তবু বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্যে বাংলায় বিকাশের কাজ করে চলেছে। এখনই আমি ১৮ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করলাম। বাংলার বিকাশ হবে সৎ নীতি নিয়ে। নতুন বাংলা গড়ব আমরা। মোদী বলেন, ‘বাংলার নবনির্মাণ করবে বিজেপি। বাংলায় এখন আমাদের সরকার নেই। তা-ও কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে বাংলার উন্নয়নে রয়েছি আমরা। ’ ব্রিগেডের জনসভা থেকে আবারও কেন্দ্রের প্রকল্প আটকে রাখার অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন,'নির্মম সরকার বাংলার উন্নয়নে ব্রেক কষে রেখেছে। কেন্দ্রের সূর্যঘর প্রকল্প চালু করতে দিচ্ছে না। তৃণমূল চায় না বাংলার মানুষের বিদ্যুৎ বিল শূন্য হোক। চা শ্রমিকরাও প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে না।'
২. উঠে এল মনীষীদের কথা
মোদীর বক্তব্য আজও উঠে এল মনীষীদের কথা। তিনি বলেন,'রামকৃষ্ণ পরমংহদেব, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্য়াসাগর থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রানী রাসমনিদের মতো মহান ব্যক্তিরা যে বাংলার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিজেপি সেই বাংলারই নতুন করে নির্মাণ করবে। বাংলার উন্নতি সঠিক নীতিতে হবে। বাংলায় এখন আমাদের সরকার নেই। কিন্তু তাও কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্যে বিজেপি বাংলার উন্নতির চেষ্টা করে চলেছে।'
৩. চাকরি নিয়ে তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ
মোদী বলেন, 'বাংলা একসময় গোটা ভারতের বিকাশে সাহায্য করত। শিল্প-বাণিজ্যে সবার আগে ছিল বাংলা। কিন্তু এখন বাংলার যুবরা ডিগ্রি নিতে পারছে না। রোজগারও হচ্ছে না। চাকরি নেই। কাজের জন্য অন্য রাজ্যে পালাতে হচ্ছে। প্রথমে কংগ্রেস, পরে কমিউনিস্ট, এখন তৃণমূল…এরা বাংলায় এসেছে। শুধু পকেট ভরেছে। আর বাংলা ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে। তৃণমূল সরকারের আমলে নিয়োগ দুর্নীতি হচ্ছে। চাকরি খোলা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এখন সময় এসেছে বদলানোর। যুবরা বাংলার উন্নতিতে যাতে নেতৃত্ব দেয়, এই স্বপ্ন আপনার আর এই স্বপ্ন পূরণ করাই মোদীর গ্যারান্টি।' মোদী বলেন, বাংলা একটা সময় ব্যবসা-বাণিজ্যে দেশে সবচেয়ে আগে ছিল। কিন্তু এখানকার তৃণমূল সরকার রাজ্যের মানুষকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। বাংলার যুবসমাজ পরিশ্রম করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে থাকে। তাঁদের সর্বনাশ করেছে এই তৃণমূল সরকার।
৪. কাটমানি নিয়ে খোঁচা
তৃণমূল সরকারের শুধু টাকা চাই। কাটমানি না পেলে কোনও কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু হতে দেয় না। তাই বাংলায় উন্নয়নের কাজ থমকে রয়েছে। কিন্তু আপনাদের স্বপ্ন পূরণ করার দায়িত্ব আমার। এটা মোদী গ্যারান্টি। বললেন, নরেন্দ্র মোদী।
৫. আবাস যোজনা নিয়ে নিশানা
দুর্নীতি ইস্যুতে তৃণমূলকে বারবার নিশানা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি অভিযোগ করেন, চা-বাগানের শ্রমিকদেরও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা দিতে দেয় না তৃণমূল। পাকা বাড়ি সর্বত্র পাচ্ছেন মানুষ। কিন্তু এখানে প্রকল্পের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। তার পরেও যাঁদের বাড়ি পাওয়ার কথা ছিল, তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন। জলজীবন মিশন থেকে আয়ুষ্মান ভারত, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তৃণমূলের জন্য বঞ্চিত বলে অভিযোগ মোদীর।
৬. প্রকাশ্যে চাকরি বিক্রি
মোদী বলেন, আজ এখানকার যুবক-যুবতী ডিগ্রি পাচ্ছেন না, চাকরিও পাচ্ছেন না। তাঁদের ভিনরাজ্যে চলে যেতে হচ্ছে। তৃণমূল সরকার প্রকাশ্যে চাকরি বিক্রি করেছে। বিজেপি সরকারে এলে এরা রাজ্যেই চাকরি পাবেন। হাল বদলাতে বিজেপিকে আনুন। গ্যারান্টি দেন, বাংলায় যুবক-যুবতীরা এ বার বাংলায় কাজ পাবেন। তৃণমূল না নিজে কাজ করে, না অন্যদের কাজ করতে দেয়। কাটমানি না পেলে কোনও প্রকল্পকে গ্রামেগঞ্জে পৌঁছোতে দেয় না। তাই কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে পৌঁছোতে দেয় না।
৭. উঠে এল সন্দেশখালি, আরজি কর
মোদী বলেন,'নির্মম সরকার ধর্ষকদের আশ্রয় দেয়। অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করে। সন্দেশখালি, আরজিকরের ঘটনা ভোলেনি বাংলার মানুষ। অপরাধীদের আড়াল করা হচ্ছে।' অপরাধ হলেই দেখা যায় কোনও না কোনও তৃণমূল নেতা বা কর্মী যুক্ত থাকেন। সন্দেশখালি থেকে আরজি কর কাণ্ড, মানুষ ভোলেনি। সকলেই সাক্ষী যে, তৃণমূল কীভাবে প্রকাশ্যে অপরাধীদের সঙ্গে থাকে। তাই মেয়েদের বলতে হয়, বাড়ি ফিরে এসো সন্ধে নামার আগে। বিজেপি আসলে এই পরিস্থিতির বদল ঘটবেই।
৮.অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও ফের সুর চড়ালেন
মোদী বলেন, 'অনুপ্রবেশকারীরা বাংলাকে লুটে নিচ্ছে। জনবিন্যাস বদলে দিয়েছে। আর বাঙালি হিন্দুদের সংখ্যালঘু করে দেওয়া হচ্ছে। ওরা হিন্দুদের নিজের ভোট ব্যাঙ্ক মনে করে না। বাংলাকে এখন অসুরক্ষিত বানিয়ে ফেলেছে। কোটি কোটি বাঙালিকে শেষ করার চেষ্টা করছে।'
৯. রাষ্ট্রপতিকে অপমান
মোদী বলেন, ওঁরা শুধু রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেননি। ওঁরা আদিবাসীদের অপমান করেছেন। কোটি কোটি মহিলাকে অপমান করেছেন। দেশের সর্বোচ্চ পদের গরিমাকে খাটো করেছেন। ওঁরা সংবিধানের অপমান করেছেন। বাবাসাহেব অম্বেডকরকে অপমান করেছেন। এর সাজা নির্মম সরকার পাবে।
১০. নির্বাচন কমিশন নিয়ে জবাব
তৃণমূলকে নিশানা করে মোদী বলেন, সাংবিধানিক ব্যবস্থার উপর প্রতি দিন হামলা করার রাস্তা খোঁজেন ওঁরা। সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কথা বললেই হামলা হয়। যে সংস্থা স্বতন্ত্র এবং নিরপেক্ষ ভাবে ভোট করায়, তাদের বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। একই কথা বলা হয় দেশের সেনা নিয়ে। বালাকোটের সময়ও বায়ুসেনার কাছে প্রমাণ চেয়েছিলেন ওঁরা।