সেটা নয়ের দশক। বিকেল হলেই হ্যারিকেন, চিমনির কাচ মুছতে বসতেন মা-ঠাকুমারা। স্টোভে পর্যাপ্ত কেরোসিন আছে কি না, দেখে নিতেন ভালো ভাবে। ঠিক করে কেটে রাখতেন সলতে। LPG সিলিন্ডার সংকটের আবহে কি আবার সেই দিন ফিরতে চলেছে? শনিবার CNBC-TV18-এর একটি অনুষ্ঠানে যোগ কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর (Commerce and Industry Minister Piyush Goyal) একটি মন্তব্যে তেমনই ইঙ্গিত দেখছেন অনেকে। তিনি বলেছেন, ‘বিকল্প জ্বালানি (Alternative) হিসেবে কেরোসিনের (Kerosene) উৎপাদন বাড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।’
LPG সিলিন্ডার নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, শনিবার তা স্বীকার করে নিয়েছে কেন্দ্র। গ্যাস নিয়ে হাহাকার ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কেরোসিন উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। একই সঙ্গে গ্যাস এবং পেট্রল-ডিজেল যথেষ্ট পরিমাণে মজুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আট এবং নয়ের দশকে LPG সিলিন্ডারের প্রচলন সেই ভাবে হয়নি। কয়লার পাশাপাশি তখন কেরোসিনই ছিল একমাত্র ভরসা। অনেক পরিবারেই কেরোসিনের স্টোভে রান্না হতো। রেশনে কেরোসিনের উপরে ভর্তুকিও দিত কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু বাজারে ব্যাপক হারে LPG চালুর পর থেকেই কেরোসিনের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। পাল্লা দিয়ে ভর্তুকিও কমাতে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকার। উৎপাদন এবং ব্যবহার তলানিতে গিয়ে ঠেকে। এখন রান্নাঘর থেকে কেরোসিন প্রায় অদৃশ্যই হয়ে গিয়েছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, কেরোসিনের উৎপাদন বাড়িয়ে আসলে LPG সিলিন্ডারের উপর চাপ কমানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, এক মাসের জন্য হোটেল ও রেস্তোরাঁয় বায়োমাস, RDF পেলেট, কেরোসিন ও কয়লা ব্যবহারের ছাড়পত্রও দিয়েছে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক।
তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, কেরোসিন চালু করা অতটাও সহজ হবে না। India Energy Statistics 2025-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ থেকে ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে কেরোসিন উৎপাদন ৮৩ শতাংশ কমে গিয়েছে। ৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন থেকে তা নেমে এসেছে ১ মিলিয়ন মেট্রিক টনে। ২০১৭ সালে গৃহস্থ বাড়িতে ৫.৩০ মিলিয়ন মেট্রিক টন কেরোসিন ব্যবহার হতো। ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ০.৩০ মিলিয়ন মেট্রিক টন। অর্থাৎ এক ধাক্কায় কমে গিয়েছে ৯৪ শতাংশ।
তবে আশার কথা হলো, হরমুজ়ে ভারতের পতাকাবাহী জাহাজগুলিকে ‘সেফ প্যাসেজ’ দেওয়ার ঘোষণা করেছে ইরান। এতে সংকট কিছুটা হলেও কাটবে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। শনিবার ভোরেই গ্যাস নিয়ে হরমুজ় পেরিয়েছে ভারতের দু’টি জাহাজ। আগামী ১৬ থেকে ১৭ মার্চের মধ্যে তারা গুজরাটের বন্দরে এসে পৌঁছবে। দু’টি জাহাজে মোট ৯২,৭০০ টন LPG রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও হরমুজ়ে ভারতের ২৪টি গ্যাস বোঝাই জাহাজ আটকে রয়েছে বলে সূত্রের খবর। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে আশ্বাস দিয়ে বলা হয়েছে, ‘ঘরোয়া LPG নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। হাসপাতাল এবং স্কুল-কলেজেও নিয়মিত সিলিন্ডারের ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে।’