পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের (War in West Asia) জেরে গ্যাসের বাজারে হাহাকার পড়ে গিয়েছে। সকাল থেকে ডিলারের দোকানে লাইন দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রথমে সংকটের কথা মানতে না চাইলেও LPG নিয়ে কিছু উদ্বেগ রয়েছে বলে শনিবার স্বীকার করে নিয়েছে মোদী সরকার (Central Government)। এই আবহে পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস বা PNG গ্রাহকদের জন্য নির্দেশিকা জারি করল পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। নির্দেশিকায় স্পষ্ট ভাষায় বলে দেওয়া হয়েছে, ‘PNG কানেকশন থাকলে LPG সিলিন্ডার নেওয়া যাবে না।’ একই সঙ্গে পেট্রল, ডিজেল বিক্রি নিয়েও পাম্পগুলিকে (Petrol Pump) কড়া নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত শহর ও শহতলির প্রায় ৮০ লক্ষ বাড়িতে PNG কানেকশন রয়েছে। তাঁদের বেশিরভাই LPG সিলিন্ডারও ব্যবহার করেন। এখন আর তা চলবে না। এ দিন পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ‘PNG কানেকশন থাকলে গ্রাহক LPG সিলিন্ডার রাখতে পারবেন না। নতুন সিলিন্ডারের জন্য বুকিংও করতে পারবেন না তিনি।’ শুধু তাই নয়, যাঁদের বাড়িতে দু’রকমের কানেকশনই রয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে LPG সিলিন্ডার ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক। পাশাপাশি নতুন করে তাঁরা LPG কানেকশন নিতে বা রিফিল করাতে পারবেন না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে পেট্রল, ডিজেল নিয়েও পাম্পগুলিকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তেল সংকটের মুখে অনেকেই বোতল বা জারে পেট্রল, ডিজেল কিনে রাখছেন। ঠিক যেমনটা LPG সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে হচ্ছে। আগামী দিনে আর হয়তো পাওয়া যাবে না, এই আশঙ্কা থেকেই যে যতগুলো পারছেন গ্যাস বুক করে রাখছেন। আবার পাম্পে গিয়ে পেট্রল, ডিজেলও কিনে রাখছেন অনেকে। এই অবস্থায় চাহিদা বাড়ার ফলে যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে, ‘বোতল, জার বা সুরক্ষিত নয় এমন খালি পাত্রে পেট্রল-ডিজেল বিক্রি করা যাবে না।’ অন্যথায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পরে থেকেই হরমুজ় প্রণালী কার্যত বন্ধ। তার আঁচ এসে লেগেছে রান্নাঘরে। কারণ ভারতের ৯০ শতাংশ LPG গ্যাসই হরমুজ় দিয়ে আসে। তবে গত বৃহস্পতিবার ভারতের পতাকাবাহী জাহাজগুলিকে ‘সেফ প্যাসেজ’ দেওয়ার ঘোষণা করেছে ইরান। এতে সংকট কিছুটা হলেও কাটবে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। তবে এ দিন সংকটের (LPG remains a matter of concern at this time) কথা প্রথমবার স্বীকার করেছে কেন্দ্র। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা (Joint Secretary, Petroleum Ministry) বলেছেন, ‘LPG নিয়ে একটা উদ্বেগ রয়েছে।’ তবে প্রয়োজনীয় গ্যাসের জোগানও যথেষ্ট রয়েছে বলে এ দিন জোরের সঙ্গে দাবি করেন তিনি।
এ দিকে শনিবার ভোরেই গ্যাস নিয়ে হরমুজ় পেরিয়েছে ভারতের দু’টি জাহাজ। আগামী ১৬ থেকে ১৭ মার্চের মধ্যে তারা গুজরাটের বন্দরে এসে পৌঁছবে। দু’টি জাহাজে মোট ৯২,৭০০ টন LPG রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও হরমুজ়ে ভারতের ২৪টি গ্যাস বোঝাই জাহাজ আটকে রয়েছে বলে সূত্রের খবর। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে আশ্বাস দিয়ে বলা হয়েছে, ‘ঘরোয়া LPG নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। হাসপাতাল এবং স্কুল-কলেজেও নিয়মিত সিলিন্ডারের ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে।’