আলুর ফলন বেশি হওয়ায় দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। আবার সরকারি সহায়ক মূল্যে আলু কেনার কথা বলা হলেও হিমঘরগুলি আলু কিনতে চাইছে না বলে অভিযোগ। ফলে সঙ্কটে আলু চাষিরা। তবে সরকারি সহায়ক মূল্যে আলু (Potato) কিনতে কোনও সমস্যা হবে না বলে আশ্বাস দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। সোমবার থেকেই হিমঘরগুলি সরকারি দামে এবং নিয়ম মেনে আলু কিনতে শুরু করবে। শনিবার, পূর্ব বর্ধমানের (Purba Bardhaman) জামালপুরে বৈঠকের পরে এই আশ্বাস দেন তিনি।
অন্যান্য বারের তুলনায় এ বারে আলুর ফলন বেশি। এর ফলে বাজারে আলুর দাম (potato price) নেই বললেই চলে। তাতে সমস্যায় পড়েছেন রাজ্যের আলু চাষিরা। দাম না পেয়ে আলুচাষির আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে।
এই পরিস্থিতিতে চাষিদের (farmers) কাছ থেকে আলু কিনবে সরকার বলে জানিয়ে দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কিন্তু তার পরেও সমস্ত ব্লকে আলু কেনার কাজ শুরু না হওয়া এবং হিমঘর মালিকদের এগিয়ে না আসা নিয়ে ক্ষোভ বাড়তে শুরু করেছে চাষিদের মধ্যে।
এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার, নবান্নে হিমঘর মালিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন সরকারি আধিকারিকরা। আর, শনিবার জামালপুরের ব্লক অফিসে হিমঘর মালিক এবং তাঁদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে ব্লক প্রশাসন। সেখানেই উপস্থিত হন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন ( (rural development) মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। বৈঠকে নিজে সরেজমিনে পুরো বিষয়টা খতিয়ে দেখেন তিনি।
ওই বৈঠকের পরেই তিনি জানান, বেসরকারি হিমঘরগুলির (cold storage) সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যে অসুবিধা ছিল তা মিটিয়ে ফেলা হয়েছে। আগামী সোমবার থেকেই চাষিরা তাঁদের আলু হিমঘরে রাখতে পারবেন। এক জন চাষি ৭০ বস্তা করে আলু হিমঘরে আনতে পারবেন।
পঞ্চায়েতমন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্যে আলুর ফলন এ বারে অনেক বেশি তাই মুখ্যমন্ত্রী আলু কেনার কথা ঘোষণা করেছেন। ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। তবে হিমঘর মালিকদের মধ্যে কিছু অনীহা ছিল। তিন বার আলোচনার পরে শুক্রবার তা মিটিয়ে ফেলা হয়েছে।’
হিমঘরগুলিকে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের (Co-operative Bank) সঙ্গেও কথা হয়েছে। আগামী সোমবার থেকেই পুরোদমে নিয়ম মেনে আলু কেনার কাজ শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী।