শিল্প, ভাতা থেকে মতুয়া নিয়ে নীরব মোদী, বদলার হুঙ্কার
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৫ মার্চ ২০২৬
কিন্তু একবারও বললেন না, বাংলায় বিজেপি এলে শিল্প হবে। একবারও বললেন না, বাংলায় বিজেপি এলে নিয়মিত শিক্ষক নিয়োগ হবে। তৃণমূল সরকারের যে সমস্ত সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প বা জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু আছে বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে সেগুলির ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে কি না, সে প্রসঙ্গেও নীরব রইলেন। মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়েও টুঁ শব্দটি করলেন না। অথচ শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্যর মতো বিজেপি নেতারা জেলায় জেলায় বলছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ৩ হাজার টাকা হবে, শিল্প হবে।
এই মুহূর্তে বাংলার সবচেয়ে জ্বলন্ত ইস্যু এসআইআর। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলকে বিঁধতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ফের বাঁধা গতে হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের চেষ্টা করলেন। এসআইআর নিয়ে কথা বললেও প্রধানমন্ত্রী একবারও নাম বাদ পড়া হাজার হাজার মতুয়াদের উদ্বেগ নিরসনে কোনও আশ্বাসবাণী শোনালেন না। বরং এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দেওয়া ভাষণে মোদী শুধুই অনুপ্রবেশকারীদের শত্রু বানিয়ে তাঁদের ধমক দিয়ে গেলেন। বোঝানোর চেষ্টা করলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে কট্টরপন্থীরা, অনুপ্রবেশকারীরা ভয়ে ভয়ে থাকবেন। অপরাধীদের সকলকেই শাস্তি পেতে হবে।
শনিবার ছিল বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার সমাপ্তি। সেই উপলক্ষে ব্রিগেডে সভা। এদিনের সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে সরাসরি নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল দুর্নীতি, কাটমানি, নারীদের নিরাপত্তাহীনতা, প্রশাসনিক অরাজকতার মতো একের পর এক অভিযোগ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের ভোট বাংলায় সরকারের বদলের নয়, বরং বাংলার আত্মাকে বাঁচানোর ভোট। বাংলার মানুষ তৃণমূলের অপশাসনের হাত থেকে রেহাই পেতে মরিয়া।
ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সভামুখী মানুষকে পথে বাধা দেওয়া হয়েছে। ভয় দেখানো হয়েছে। সেতু বন্ধ করে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। অনেক জায়গায় বিজেপির পতাকা উপড়ে ফেলা এবং পোস্টার ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরেও মানুষের ঢল আটকানো যায়নি।