• গ্যাস সঙ্কটে ছোট হচ্ছে চপ–পিঁয়াজি-সহ তেলেভাজা
    এই সময় | ১৫ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, হাওড়া: বাঙালির প্রিয় খাবারের তালিকায় বরাবরই প্রথম সারিতে থেকেছে চপ, বেগুনি, ফুলুরি। এগরোল, চাউমিন, বিরিয়ানির জনপ্রিয়তা যতই বাড়ুক না কেন, তেলেভাজার নাম শুনলেই খাদ্যপ্রিয় বাঙালিরা লোভ সম্বরণ করতে পারে না। বেকারত্ব ঘোচানোর জন্য চপ শিল্পের সম্ভাবনার কথা বলেছেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু রান্নার গ্যাসের সঙ্কটে (LPG CRISIS) সেই চপ শিল্পই এখন বড়সড় সঙ্কটের মুখে।

    পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ (West Asia War) চলায় সারা দেশজুড়েই রান্নার গ্যাসের জোগান কমেছে। বেড়েছে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম। তার অভিঘাতে তেলেভাজার ব্যবসায়ীরা গুরুতর সমস্যার মুখে পড়েছেন। হাওড়া শহরের একাধিক তেলেভাজার দোকানদার জানিয়েছেন, কমার্শিয়াল সিলিন্ডার পেতে দেরি হওয়ায় বাধ্য হয়ে তাঁদেরকে ব্ল্যাকে কিনতে হচ্ছে। কেউ আবার কেরোসিনের স্টোভে অথবা কয়লার উনুনে চপ ভাজতে শুরু করেছেন। তাতে জ্বালানি খরচ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। তাই বলে ইচ্ছামতো দাম বাড়াতে পারছেন না তাঁরা। কারণ, দাম বাড়ালে ক্রেতা কমে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসা সচল রাখতে তাঁরা তেলেভাজার সাইজ কমিয়ে দিচ্ছেন।

    হাওড়া শহরের তেলেভাজার দোকানদার মদন অধিকারী বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে গ্যাস ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। ব্ল্যাকে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। তাই চপের সাইজ একটু ছোট করতে হয়েছে, না হলে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।’ সালকিয়ার এক তেলেভাজা দোকানের মালিক বলেন, ‘চার-পাঁচ দিন ধরে গ্যাসের সরবরাহ নেই। তাই বাধ্য হয়ে কয়লা ও গুলের উনুনে চপ ভাজছি। এতে খরচ বাড়ছে, আবার ভাজতেও দেরি হচ্ছে।’ সকালের জলখাবারের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার কচুরি। গ্যাসের সঙ্কটে তারও সাইজ রাতারাতি বদলে গিয়েছে। আগে যেখানে ১৫ টাকায় চারটি কচুরি দেওয়া হতো, এখন অনেক দোকানেই সেই একই দামে তিনটি কচুরি মিলছে। রসগোল্লা, পান্তুয়ার সাইজও কমছে। কেউ আবার মিষ্টির দাম গড়ে ২–৩ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

    শ্রীরামপুর বটতলায় বহু বছর ধরে হোটেল চালাচ্ছেন সুশান্ত কর্মকার। তিনি বলেন, ‘বাধ্য হয়েই ভাত, ডাল, হোম ডেলিভারিতে ১০ টাকা করে বাড়িয়েছি। বিকেলে চপ, কচুরি, সিঙ্গারা আপাতত বন্ধ আছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আলুর চপ, সিঙ্গারার দাম গড়ে এক টাকা করে বাড়াতে হবে।’ মাহেশের জিটি রোডে ফাস্ট ফুডের দোকান সুরজিৎ দাসের। তিনি জানাচ্ছেন, বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে তাঁর দোকানে মোগলাই ৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা হয়েছে, চাউমিন ফুল প্লেট ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ টাকা এবং এগরোল ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা হয়েছে। শ্রীরামপুর জিতেন লাহিড়ী রোডে ফিস ফ্রাই, চিকেন রোল, এগরোল বিক্রি করেন রুপক কর। তিনি বলেন, ‘গ্যাস পরিষেবা অমিলের কারণে বাণিজ্যিক গ্যাসের কালোবাজারি শুরু হয়েছে। বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ২৬০০-২৭০০ টাকা করে চাইছে। সেই কারণে দোকান বন্ধ করে দিয়েছি।’

    উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের বড়বাজার সংলগ্ন এলাকায় বহু বছরের পুরোনো একটি মিষ্টির দোকান রয়েছে। দোকানে ২৮ জন কর্মী কাজ করেন। দোকানের মালিক রজত বিশ্বাস জানাচ্ছেন, বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি বানাতে তাঁদের প্রতিদিন ১০০ কেজি ছানা লাগে। রোজ দু’টো করে গ্যাসের সিলিন্ডার লাগে। হাতে পর্যাপ্ত গ্যাসের সিলিন্ডার না থাকায় বর্তমানে মাত্র ৩০ কেজি ছানার মিষ্টি তৈরি হচ্ছে। কর্মচারীর সংখ্যা কমিয়ে ১০–এ নামিয়ে আনা হয়েছে। জ্বালানি খরচ বাড়লেও মিষ্টির সাইজ কিন্তু একই রাখা হয়েছে। রজতের কথায়, ‘মিষ্টির দাম বাড়ালে যেটুকু ব্যবসা হচ্ছে, সেটাও আর হবে না।’ বারাসতের হেলাবটতলা মোড় সংলগ্ন রাস্তার ধারে চৌকি পেতে আলুর চপ, বেগুনি, পিঁয়াজি বিক্রি করেন ধীরেন দাস। গ্যাসের সঙ্কটের জেরে গত তিনদিন ধরে তাঁর চপের দোকান বন্ধ। বারাসত শহরে একটি ফাস্ট ফুডের দোকান চালান বিমলা দাস। গ্যাস না মেলায় তিনি এখন কেরোসিন ব্যবহার করছেন। খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিটি আইটেমের দাম গড়ে ৫ টাকা করে বাড়িয়ে দিয়েছেন।

  • Link to this news (এই সময়)